লোকের আকাঙ্ক্ষা পূরণই অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় রাখার উপায়
সম্প্রতি পতন হওয়া শেখ হাসিনার সরকারের পর এখন বাংলাদেশের দায়িত্বে রয়েছে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। জনগনের প্রত্যাশা পূরণ করা এই সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে ব্রাসেলসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। এ প্রতিষ্ঠানটি গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানায় যে, অন্তর্বর্তী সরকারকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণই ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার একমাত্র উপায়।
এজন্য মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের উচিত হবে দীর্ঘদিন ধরে গেড়ে বসা দুর্নীতি মোকাবিলা, উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা, রাজধানীর রাস্তায় পুলিশ ফিরিয়ে আনা, বাসাবাড়ি ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা ইত্যাদি পদক্ষেপ নেওয়া। সরকারকে শেখ হাসিনার আমলে হওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলোও প্রত্যাহার করা উচিত। এতে বিচারকদের নিরপেক্ষ হয়ে সত্যিকারের দায়িত্ব পালনের পথ সুগম হবে।
দৈনন্দিন কাজের গতি আরও বাড়াতে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হবে উপদেষ্টাদের সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় ঘাটতি থাকা উপদেষ্টাদের সঙ্গে অভিজ্ঞ সহকারী বা কর্মী নিয়োগ দেওয়া। সংস্কার কমিশনের সদস্যদের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা উচিত যাতে সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়।
সরকারের উচিত হবে শিক্ষার্থী ও সেনাবাহিনীর মতো মিত্রপক্ষ ছাড়াও বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের মতো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসা। সংবিধান ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে সব পক্ষের একমত হওয়াটা কঠিন হবে। তবে সব দলকেই এ ব্যাপারে ছাড় দিতে হবে। পাশাপাশি কবে নির্বাচনের আয়োজন করা হবে, সরকারের দ্রুত এ বিষয়ে একটি পথরেখা ঘোষণা করা উচিত।
সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এসব বিষয়ে জাতীয় বিচারব্যবস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষকেও সম্পৃক্ত করার বিষয়টি ভাবা যেতে পারে। সরকারের উচিত হবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান ‘শুদ্ধি অভিযান’ এর লাগাম টানা। শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অনেককে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।
শেষত প্রধানমন্ত্রী ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তরবর্তি সরকার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থা চালুর বিষয়েও মনোযোগ দিয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারকে তার বিস্তৃত রাজনৈতিক সংস্কারের নীতিটি সফলভাবে এগিয়ে নিতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নতুন একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা দরকার যারা নির্দলীয় এবং যাদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আছে।
নির্বাচন কমিশন ছেড়ে যাওয়া কমিশনাররা নির্দলীয় এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করার মতো কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। নির্বাচনী সংস্কার কমিশন সংস্থাটির ক্ষমতা ও দায়িত্বের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করবে বলেও জানিয়েছে।