ববিতা, ‘পুত্র এখন পয়সাওয়াল’ সিনেমার পর আর ফেরেননি, কিন্তু…
ষাটের শেষের দিকে অভিনয়ে হাত পেতে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র জগতে রাজত্ব করেছেন ববিতা। ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নার্গিস আক্তারের ‘পুত্র এখন পয়সাওয়াল’ ছবিটিই তাঁর শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা। তারপর থেকে তাঁকে আর ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি। তবে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাবের অভাব নেই। এ বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রাজকুমার’ ছবিতেও অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত কারণের পাশাপাশি নিজের মনের মতো চরিত্র না পাওয়ায় তিনি সেই প্রস্তাবটিও প্রত্যাখ্যান করেন। ববিতার মতে, তিনি এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চান, যে চরিত্রটি পুরো গল্পে প্রভাব বিস্তার করবে, কেবল নায়কের কিংবা নায়িকার মার চরিত্রে নয়।
ববিতার অভিনয় জীবনের শুরু ষাটের দশকের শেষ দিকে। তাঁর প্রথম সিনেমা ‘সংসার’। সেখানে তিনি তাঁর বড় বোন সুচন্দা চাটনীর ছোট বোনের চরিত্রে অভিনয় করেন। সুচন্দার সঙ্গে সেই সিনেমাতে নায়ক ছিলেন রাজ্জাক। এরপর পরই মুক্তি পায় ‘শেষ পর্যন্ত’ নামে একটি সিনেমা। সেই সিনেমায় তিনি প্রথমবার নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন। সেখানেও নায়ক ছিলেন রাজ্জাক। ‘জ্বলতে কি সুরুজ’ নামক সিনেমায় বাবা-মার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি রূপান্তরিত হন ফরিদা আকতার পপি থেকে ববিতায়। সেভাবেই শুরু হয় ববিতার চলচ্চিত্র অভিনয়। একবার শুরু হলে, ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত অভিনয় করে গেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন।
৯ বছর ধরে অভিনয় না করলেও বিভিন্ন সময়ে প্রযোজক-পরিচালকরা তাঁর কাছে সিনেমার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। প্রতিবারই তিনি বিনয়ের সঙ্গে সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে ববিতা বলেছেন, "আসলে আমি যেভাবে অভিনয় করতে চাই, সেইরকম চরিত্র এখনো কোনো সিনেমাতে পাইনি। অনেকে শুধু আমাকে তাঁদের সিনেমায় দেখতে চান। আমি তো এটা হতে দিতে পারি না। আমি ফিরতে চাই। তবে ফেরার মতো গল্প হলেই ফিরব। সেটা আমার পছন্দ হতে হবে। বিদেশেও তো আমরা এরকম দেখি।"
ববিতা গত কয়েক মাস কানাডা এবং আমেরিকায় থাকছেন। কানাডায় তাঁর একমাত্র ছেলে অনিকের বসবাস। আমেরিকায় থাকেন তাঁর ভাইবোনরা।
ববিতা জানিয়েছেন, অভিনয় জীবনে এখনো তাঁর কিছু আফসো রয়ে গেছে। তাঁর মতে, আমাদের দেশে অভিজ্ঞ শিল্পীদের প্রয়োজনমতো কাজে লাগানো হয় না। বিদেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের কেন্দ্র করেই সিনেমার গল্প গড়ে ওঠে। আমাদের দেশের সিনেমা নির্মাতারা মৌলিক গল্প নিয়ে সিনেমা বানানোকে ভয় পান। ববিতার কথায়, "গত ৯ বছরে অনেক নির্মাতা আমাকে গল্প শুনিয়েছেন। কোনোটাই আমার পছন্দ হয়নি। একেবারে নতুন আঙ্গিকের কোনো মৌলিক গল্প না পেলে আমি আর অভিনয় করতে চাই না। আমি এখনো সেইরকম একটি গল্পের অপেক্ষায় আছি, যে গল্পের জন্য আমি মনপ্রাণ উজাড় করে অভিনয় করতে পারব।"
ববিতা নিজেকে আগাগোড়া একটি চলচ্চিত্র শিল্পী বলে মনে করেন। চলচ্চিত্রের কারণেই তিনি দেশে-বিদেশে সবার কাছে পরিচিত। তাঁর দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা এবং সম্মানের পেছনে রয়েছে একমাত্র চলচ্চিত্র। তাই তিনি এখনো ভালো কোনো গল্প পেলে তাতে মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করতে চান। দুঃখের বিষয়, গত কয়েক বছরে তেমন কোনো গল্প তিনি পাননি। সেই সময়টা কবে আসবে, তা জানেন না তিনি।
চলচ্চিত্রে অনুপ্রেরণা
ববিতা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন তাঁর বড় বোন সুচন্দা চাটনীর কাছ থেকে। ববিতার জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সম্মাননা
ববিতা ৩৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর তিনি টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া তিনি ১৯৮৫ সালে আরেকবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী, ১৯৯৬ সালে শ্রেষ্ঠ প্রযোজক, ২০০২ সালে এবং ২০১১ সালে পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। ২০১৬ সালে