যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। দেশটি বন্যাকবলিত এলাকার অধিবাসীদের ক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য সহায়তা প্রদান করবে।
এই তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির মানবিক সহযোগিতা প্রকল্পের পরিচালক মুস্তাফা এল হামজাউই। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আমেরিকান সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবেলায় মার্কিন সরকারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বন্যায় ভারত থেকে আসা পানি এবং বাঁধগুলি খুলে দেওয়ার প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। প্রতিক্রিয়ায়, হামজাউই ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলি এবং নদী ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সহযোগিতার উপর জোর দেন। তবে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।
সাংবাদিকরা আবার প্রশ্ন করেন যে রোহিঙ্গা সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার যেভাবে সক্রিয় তেমনি বাংলাদেশের বন্যা সহায়তায়ও তাদের সেই একই স্তরের ভূমিকা দেখা যায় না। উত্তরে ইউএসএআইডির মানবিক সহযোগিতার সিনিয়র উপদেষ্টা শাহনাজ জাকারিয়া বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশে বন্যার পূর্বাভাস এবং ত্রাণ কার্যক্রমে কাজ করছে। রেড ক্রস সহ বিভিন্ন সংস্থাকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। রংপুর অঞ্চলে ৪০০০ জনকে বন্যাসহনশীল বাড়ি নির্মাণে সাহায্য করা হয়েছে। সরকারের ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্যও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।
দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানান মুস্তাফা এল হামজাউই। বাংলাদেশের জনগণকে জলবায়ু সহনশীল করে তোলার জন্যও প্রচেষ্টা চলছে।
একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তিব্বত থেকে ভারত এবং তারপর বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি বৃহৎ এলাকা জুড়ে নির্মিত অনেকগুলি বাঁধ বাংলাদেশে বন্যা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। বাঁধের পানি ছাড়ার সময় কোনো “ভুল রাজনৈতিক” বিবেচনা কাজ করছে কিনা।
প্রতিক্রিয়ায়, হামজাউই বলেন, বাংলাদেশ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুবই নিচুতে অবস্থিত এবং বেশিরভাগ নদীর উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের উজানে অবস্থিত। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় উজানের দেশগুলির সাথে পানি বণ্টন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।