৫২ মফস্বল ডেস্ক।।
নরসিংদীর বালুসাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ তিন শিক্ষককে লাঞ্ছনার ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো ক্লাস বর্জন করে বিচারের দাবীতে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা।
নারায়ণগঞ্জে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রধান শিক্ষকসহ তিন শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় শিক্ষাঙ্গণ। গত সোমবার বিকেল মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বালুসাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীর অশোভন আচরণকে কেন্দ্র করে তাকে শাসন করায় ওই শিক্ষার্থীর মামা ও তার লোকজনদের হামলার শিকার হয় শিক্ষকরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বালুসাইর উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশপাশের হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে মানববন্ধন ও মিছিল করে। এ সময় ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত বাবলুর কুশ পুত্তলিকা দাহ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীরা জানায়, ঘটনার দিন দুপুরে ওই শিক্ষার্থী বাসায় ফিরে প্রধান শিক্ষকের নামে নালিশ করে তার মামা মোজাফফর হোসেন বাবলুর কাছে। পরে বাবলু স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইলিয়াছ খাঁনকে কয়েকজন শিক্ষকসহ তার রুমে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় তারা প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
এতে স্কুলের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও আবদুল হাই প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকে এলোপাথারী মারপিট করে আহত করে। আহতদেরকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। ঘটনার পর বিকালে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী জড়ো হয়ে বাবলুর বাড়িতে হামলার চেষ্টা চালায় ও ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় বাবলু বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে সাব্বির নামে স্কুলের প্রাক্তণ এক শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়। পরে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন জানান, ক্লাসে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে প্রধান শিক্ষক কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেন। এর পরপরই তিনি আবার অনুতপ্ত হয়ে ওই ছাত্রীর কাছে দু:খ প্রকাশ করে তাকে শান্তনা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু এ শিক্ষার্থীর অভিভাবক হামলার মাধ্যমে তারা গোটা শিক্ষক সমাজকেই লাঞ্ছিত করেছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, মোজাফফর হোসেন বাবলু এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় স্কুল শিক্ষকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি অনেকে প্রত্যক্ষ করলেও ভয়ে কেউ এর প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। তারা এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবী করেন। এ ব্যাপারে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আলমগীর হোসেন ভুইয়া জানান, স্কুলে লোকজনসহ বাবলুর উপস্থিতির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করেন।
তিনি আরো জানান আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে অত্র স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শিল্পমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভুইয়ার আসার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক কোন অন্যায় করে থাকলে ম্যানেজিং কমিটি তার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিবেন। এসব দোহাই দিয়েও বাবলু বাহিনীকে শান্ত করতে না পেরে তিনি ফিরে আসেন। তিনি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এর বিচার দাবী করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন বাবলু সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, আমি শিক্ষকদের সাথে এ রকম কোন আচারণ করিনি। একটি কুচক্রি মহল আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে এ ধরণের গুজব ছড়িয়েছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।