বিশেষ শিশুদের চিকিৎসার জোখিম, ৩৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে তিন মাসের বেতন বকেয়া
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত ৩৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী ও কর্মীরা তিন মাসের বেতন পাননি। এই অনিশ্চয়তায় বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে এমন শিশুদের চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কেন্দ্রগুলির সেবা
২০০৮ সাল থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং ইন্দ্রিয় উন্নয়নের সুযোগ প্রদানের জন্য শিশু বিকাশ কেন্দ্রগুলি গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলির লক্ষ্য এই শিশুদের রোজকার জীবনে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। বর্তমানে দেশের ২৪টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ১১টি জেলা সদর হাসপাতালে একটি করে এমন কেন্দ্র আছে।
বকেয়া বেতন
একটি কেন্দ্রে সাধারণত একজন চিকিৎসক, একজন মনোবিজ্ঞানী, একজন ডেভেলপমেন্ট থেরাপিস্ট, একজন অফিস ব্যবস্থাপক এবং একজন ক্লিনারসহ মোট পাঁচজন কর্মী থাকে। ৩৫টি কেন্দ্রে কর্মরত জনবলের সংখ্যা ১৭৫ জন। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় দফতরে আরও ১১ জন কর্মী আছেন।
স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির ‘হাসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট’ অপারেশন প্ল্যানের আওতায় শিশু বিকাশ কেন্দ্রগুলি দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্তরের হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলির অর্থায়ন সরকারের স্বাস্থ্য উন্নয়ন বাজেট থেকে হয়।
স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচি গত জুন মাসে শেষ হয়েছে। সেই থেকে জুলাই, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে দেশের কোনো শিশু বিকাশ কেন্দ্রের কর্মী বেতন পাননি।
বিশেষায়িত সেবা
ঢাকা মেডিকেলের শিশু বিকাশ কেন্দ্রের মনোবিজ্ঞানী আফরোজা বেগম জানান যে, এই কেন্দ্রে স্নায়বিক বৈকল্যজনিত সমস্যা, সেরিব্রাল পালসি, ডাউন সিনড্রোম, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা, অটিজম, মৃগী, স্পিচ ডিসঅর্ডার এবং বিভিন্ন আচরণগত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য হাসপাতালে এসব শিশুদের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সঠিক চিকিৎসা করা সম্ভব হয় না।
বকেয়া বেতনের প্রভাব
আফরোজা বেগম বলেন, "তিন মাসের বেতন না পেয়ে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। কত দিন বেতন ছাড়া থাকতে হবে, তাও জানি না। চাকরি আছে কিনা, তাও স্পষ্ট নয়। এই অবস্থায় অনেকেই কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এতে বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত শিশুরাই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"
ইতিমধ্যে কয়েকটি কেন্দ্রের কর্মীরা চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। এই অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে এই প্রবণতা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. আবু জাফর জানিয়েছেন, "আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি।"