৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা (এমপি) আগামী ৩ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
আজ (মঙ্গলবার) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) কার্যালয়ে ‘বিএসআরএফ-সংলাপ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩ জানুয়ারি সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। তার আগেই নির্বাচন কমিশনের গেজেট হবে।

এদিকে, আগামী ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আগেই নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেছেন, দু’একদিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে গেজেট প্রকাশ করা হবে। এরপর সংসদ সদস্যরা (এমপি) শপথ নেবেন। নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতি সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে আমাদের সভাপতি শেখ হাসিনা সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন। আলাপ-আলোচনা করে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন দিবসের আগেই আশা করছি এর আগেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কাদের এসব কথা বলেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সাতজনের শপথের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি আহ্বান জানাব, তাদের শপথ নিতে। শপথ না নিয়ে তারা জনগণের রায়কে যেনো অসম্মান না করেন। এটা আমার আহ্বান। তারা যদি শপথ না নেয় তাহলে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন নিয়ম অনুযায়ী যেটা করার করবে।’
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি দলের সাধারণ সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, নেতাকর্মীদের বলব, বাড়াবাড়ি না করে প্রতিপক্ষের প্রতি হিংসা না দেখিয়ে ধৈর্য সহকারে সংযমী হওয়ার জন্য।
অপর এক প্রশ্নে উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা দেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছিল ১৯৭০ সালের পরে এমন গণজোয়ার দেখা যায়নি। এই গণজোয়ারে বিএনপির পরাজয়। এটাই ছিল স্বাভাবিক, এটা অস্বাভাবিক কোনো বিষয় না। বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল। তারা যেমন আন্দোলন করতে পারেনি তেমনি নির্বাচনেও জনগণের কাছে যেতে পারেনি। তাদের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীরাও পোলিং এজেন্ট দিতে পারেনি। তাদের কোনো প্রচার ছিল না। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, বিশ্বকে দেখানোর জন্যই তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।’
আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘তারা এতদিন কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। তারা এতো নার্ভাস, এতো হতাশ, নেতারাই ভেঙে পড়েছে। তাদের কর্মীরা কী করবে? আন্দোলনে তাদের প্রস্তুতি আছে কিভাবে? একটি বিক্ষোভের কর্মসূচিও তো দিতে পারত। খালেদা জিয়া কারাগারে গেল এরপরও তারা কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি। আমার মনে হয় না, বিএনপি আন্দোলন করতে পারবে।’
জাতীয় পার্টি এবারও সরকারের থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বিষয়টির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৫৯টি আসনে পেয়েছে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীরা। আর তাদের নেতৃত্বাধীন মহাজোট পেয়েছে ২৮৮ আসন। এর বিপরীতে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি হয়েছে। তাদের ধানের শীষের প্রার্থীরা মাত্র সাতটি আসনে জয়ী হতে পেরেছে। ইতোমধ্যে ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।