এম,লুৎফর রহমান, ৫২ নরসিংদী থেকে।।
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার রেশ এখনও কাটেনি। এরই মধ্যে নরসিংদীতে এক কলেজ ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নরসিংদী বীরপুরে কলেজ ছাত্রী ফুলন রানী বর্মনের (২২) গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সজিব নামে শুক্রবার ভোরে তাকে রায়পুরা উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকা থেকে ওই ছাত্রীর ভাইয়ের শ্যালক সজিবকে আটক করেছে পুলিশ। রায়পুরা থানা পুলিশের ওসি (অপারেশন) মোজাফফর হোসেন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে রাতেই অভিযানে নামে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সজিব নামে ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ও দগ্ধ কলেজ ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মামার সঙ্গে দোকানে কেক আনতে যায় ফুলন। মামা কেক কিনে দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ফুলন কেক নিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় পৌঁছালে অজ্ঞাত দুই দুর্বৃত্ত তার হাত মুখ চেপে ধরে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে কেরোসিন ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ফুলনের ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন (বিপিএম) ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দুজ্জামানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল থেকে কেরোসিনের একটি বোতল, ম্যাচ বক্স, ওড়না, চুলসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। একটি সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধ ফুলনের চাচাতো ভাই সুমনের শ্যালক সজিব ফুলনকে পছন্দ করতো। গত দুই বছর যাবৎ ফুলনকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল সে। কিন্তু ফুলন এতে রাজি হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সজিব এ আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা। ফুলনকে উদ্ধারকারী তপন মল্লিক বলেন, হঠাৎ চিৎকার শুনতে পাই। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি একটা মেয়ের শরীরে আগুন জ্বলছে। যন্ত্রণায় মেয়েটি চিৎকার করছে। পাশে অন্যান্য নারীরা দেখছে। পরে একটি ভেজা চট তার শরীরে চাপা দিয়ে আগুন নেভানো হয়। সঞ্জিত বর্মণ নামে অপর একজন বলেন, আগুনে ফুলনের মাথার বেশিরভাগ চুল পুড়ি গেছে। এবং শরীরের পেছনের দিকে বেশি পুড়েছে।