সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহসভাপতি আশিকুর রহমান (আশিক) ও সাংগঠনিক সম্পাদক অমিত সাহাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এই দুজনই গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী রুদ্র সেন হত্যা মামলার আসামি। পাশাপাশি, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে হামলার ঘটনার একটি মামলায়ও আসামি হিসেবে রয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেল আড়াইটায় র্যাব-৯-এর সহকারী পুলিশ সুপার মশিহুর রহমান সোহেল প্রথম আলোকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ সদর থেকে র্যাব-৯ ও র্যাব-১৪-এর যৌথ অভিযানে ওই দুই ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই দুই আসামিকে সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
গত ২১ মার্চ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়। এতে সহসভাপতির দায়িত্ব পান আশিকুর। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশালে। অপর দিকে, শাখা ছাত্রলীগের একই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়া অমিত সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের ৪২৩ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
কোথাও দেখা হলেই হাসিমুখে কথা বলত রুদ্র
১৭ জুলাই হলে অভিযান চালিয়ে অমিত সাহার কক্ষ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে আগ্নেয়াস্ত্রগুলো সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানায় হস্তান্তর করেছিল হল কর্তৃপক্ষ। তবে, এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
এর আগে, নাশকতার মামলায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান ও ২৫ সেপ্টেম্বর নরসিংদীর রায়পুরা থানা থেকে সাধারণ সম্পাদক সজীবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটককে ‘শহীদ রুদ্র তোরণ’ নাম দিলেন আন্দোলনকারীরা।