রিজওয়ান আর পাকিস্তান দুই-ই এখন ফেবারিট
পাকিস্তান ক্রিকেটে এটা সবার জানা কথা। পাকিস্তানের বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে মোহাম্মদ রিজওয়ান হচ্ছেন সেরা অধিনায়ক। এমনকি বাবর আজম অধিনায়ক থাকা অবস্থায়ও পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি রিজওয়ানকে অধিনায়ক হিসেবে এক নম্বরে রেখেছিলেন।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) রিজওয়ান তার দলকে টানা ৪ বছর ফাইনালে নিয়ে গেছেন। চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছেন মাত্র একবার। তবে ধারাবাহিকভাবে দলকে ফাইনালে তোলার কৃতিত্বটা রিজওয়ানেরই পাওনা।
সেই রিজওয়ান পাকিস্তানের অধিনায়ক হয়েছেন নানা সমস্যা নিয়ে। এমনকি তার আগে আফ্রিদিকেও অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ কী, সেটা বুঝতে হলে পাকিস্তান ক্রিকেটকে বুঝতে হবে। সেটা অবশ্য সবার পক্ষে বোঝাও সম্ভব নয়!
ভারত থেকে ‘আইপিএল’ দেখে এসেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে অধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত রিজওয়ানের সামনে এখন ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুযোগ। প্রথম ম্যাচে লড়াই করে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে তার দল অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে ৯ উইকেটে জিতে। পার্থে আগামীকাল জিতলেই ২২ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতবে পাকিস্তান। আর সেই ম্যাচে রিজওয়ানের পাকিস্তান নামবে ফেবারিট হিসেবেই।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যেকোনো দলকে ফেবারিট বলাটা বেশ ঝুঁকির। তবে এই ওয়ানডে সিরিজে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের পারফর্ম্যান্স দেখলে সেই ঝুঁকিটা নেওয়াই যায়।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে মেলবোর্নে মাত্র ২০৩ রানে অলআউট হওয়ার পরও একপর্যায়ে ফেবারিট ছিল পাকিস্তানই। ১৮৫ রানেই অস্ট্রেলিয়ার ৮ উইকেট তুলে নিয়েছিল বোলাররা। তবে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের ৩২ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত জয় পায়নি পাকিস্তান।
দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য পাকিস্তানের জয়ের পথে বাধা হতে পারেনি কেউই। অ্যাডিলেডে হারিস রউফ, হাসনাইন আর শাহিন আফ্রিদি রীতিমতো ঝড় তুলেছেন। মাত্র ১৬৩ রানেই অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করে দেন, যা পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশটির সর্বনিম্ন।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে মূল ধ্বসটা নামান হারিস রউফ, ২৯ রানে নেন ৫ উইকেট, শাহিন আফ্রিদির শিকার ২৬ রানে ৩টি। উইকেটের পেছনে ৬ ক্যাচ নিয়ে এক ম্যাচে উইকেটকিপারদের সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ডে ভাগ বসান অধিনায়ক রিজওয়ান।
নিজের কাজটা শুধু উইকেটকিপার হিসেবে নয়, অধিনায়ক হিসেবেও করছেন তিনি। তার আক্রমণাত্মক অধিনায়কত্ব চোখে পড়েছে সবার। সবচেয়ে বড় বিষয়, রিজওয়ানের নেতৃত্বে পুরো দলকে এককাট্টা মনে হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেটে যে ঘাটতিটা দেখা গেছে অনেক সময়ই।
পার্থের উইকেট অস্ট্রেলিয়ার অন্য মাঠগুলোর চেয়ে বেশি পেসবান্ধব। আর পাকিস্তানের পেসাররাও আছেন দুর্দান্ত ছন্দে। আফ্রিদি, রউফরা যেন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই নিজেদের পুরোনো ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন। আর এমন এক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া আবার অনেকটা আনকোরা একটা দলকে মাঠে নামাবে।
ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির জন্য এই ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে কামিন্স, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজলউড ও মারনাস লাবুশেনদের। কামিন্সের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্ব করবেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জশ ইংলিস। শেষ ওয়ানডের জন্য জাভিয়ের বার্টলেট, স্পেনসার জনসন, জশ ফিলিপেকে দলে ডেকেছে অস্ট্রেলিয়া।
এখন দেখা যাক, তরুণ অস্ট্রেলিয়া দল নাকি রিজওয়ানের অধীনে জ্বলে ওঠা পাকিস্তান, কারা জেতে সিরিজ!