নির্বাচনী হালচাল : গাজীপুর-৩
মোঃ আব্দুল আজিজ, গাজীপুর।
আসন্ন ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৫ গাজীপুর-৩ আসনে জনগণের ভোটে কে হচ্ছেন আগামীর কান্ডারী এই নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা, এরই মধ্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইাজদুর রহমান মিলন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষনা করায় পাল্টাটে শুরু করেছে ভোটের হিসেব-নিকেশ।
জামায়াত ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী ঘোষণা না করলেও এখন পর্যন্ত মোট আট জন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। এর মধ্যে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করতে চান ডা: রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, আক্তারুল আলম মাস্টার, সাখাওয়াত হোসেন সবুজ, আতাউর রহমান মোল্লাহ্ ডা. শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট গোলাম শাব্বির আলি পারভেজ সহ মোট ছয় জন বাকী দুজনের মধ্যে একজন জামায়াতের একক প্রার্থী ড. জাহাঙ্গীর আলম ও অন্যজন জনগণের মনোনীত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইজাদুর রহমান মিলন।
ইজাদুর রহমান দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত জনপ্রতিনিধি হওয়ায় তার প্রার্থী হওয়ার খবরে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আনন্দ-উৎসব দেখা গেছে। সদর উপজেলার তিন ইউনিয়ন ও শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য।
নিউজ চ্যানেল ৫২ এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে গাজীপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইজাদুর রহমান মিলন বলেন, আমি ২০০৩ সালে প্রথম গাজীপুর সদর উপজেলার বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে পরপর দুইবার জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনসেবা শুরু করি, পরবর্তীতে চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৪ তে আমার প্রিয় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে বিগত আ.লীগ সরকারের সেই প্রতিকুল অবস্থায় আমার এলাকার জনগণের ভালোবাসায় বিপুল ভোটে জয়লাভ করি, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আ.লীগের প্রার্থী আমার কাছে জামানত হারায়। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই সদর উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে প্রচুর পরিমান উন্নয়ন কাজ করি। এর পরে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৯ এ ও জনগণ বিপুল ভোটে আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে কিন্তু আওয়ামী সরকার তার প্রশাসন দিয়ে আমাকে জিম্মি করে তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষনা করে। এর পর সর্বশেষ ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০২৪ এ ও জনগণ আ.লীগের প্রাথীর থেকে দ্বিগুন ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করেন।
বিএনপির প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ এর হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে আসা গাজীপুরের এই জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি বলেন, আমার জন্মই হয়েছে মানুষের সেবা করার জন্য, আমি কখনো আমার এলাকার জনগণকে ছেড়ে কোথাও যাইনি, আমার গ্রাম ছাড়া গাজীপুরের বাহিরে থাকার কোন জায়গা নেই মৃত্যু পর্যন্ত জনগণের সেবা করে তাদের পাশেই থাকবো।
সাবেক গাজীপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইজাদুর রহমান মিলন দল থেকে বহিস্কার ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বলেন, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০২৪ দল হিসেবে বিএনপি বর্জন করলেও আমি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাপে ও জনগণের দাবীর মুখে নির্বাচন থেকে সরে আসতে পারিনি, তারপরও নির্বাচনে অংশ নিলে দল আমাদের বিরুদ্ধে বহিস্কারের মত কঠিন সিদ্ধান্ত নিবে এটা আগে জানতে পারলে যে কোন মুল্যে আমি নির্বাচন বর্জন করতাম, কারণ তখন দলের মনোভাব এতো কঠোর ছিলনা, আমি ৮ই মে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই আর আমাকে ২৪ মে দল থেকে বহিস্কার করে। যদিও আমি এখন পর্যন্ত কোন চিঠি পাইনি। দল আমাকে বহিস্কার করলেও আমি বিএনপিতেই আছি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপিকে ভালোবেসে যাবো। দল আমাদের বিবেচনা করুক বা না করুক আমরা দলের ছিলাম দলেরই আছি, শহীদ জিয়ার আদর্শ ও বেগম জিয়ার বিচক্ষণতার যে নেতৃত্ব এবং তারুন্যের প্রতীক আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় তাদের অনুসরণ করে তাদেরকে মডেল হিসেবে সামনে রেখে আমি আমার পরবর্তী জীবনে রাজনীতি দিয়ে জনগণের সেবা করে যাবো।
তৃণমূলের জনপ্রিয় এই নেতা বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার শত-শত মানুষ আমার কাছে এসে গাজীপুর-৩ আসনে তাদের জন্য প্রার্থী হতে বলেন, তারা আমার মত অন্য কাউকে তাদের বিপদে-আপদে পাশে না পাওয়ায় আমার প্রতি তাদের এই দাবি, তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি জনগণের চাহিদা পুরণ করতে গিয়ে বিগত দিনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি ভবিষ্যতেও তাদের জন্য সব ধরণের ত্যাগ স্বীকার করতে আমি প্রস্তুত।
জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দলের পদ-পদবী কি থাকলো কি থাকলোনা এটা আসলে কোন বিষয় না, আমার ইচ্ছা মানুষের পাশে থাকা মানুষের ও ইচ্ছা আমাকে তাদের পাশে রাখা তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আসন্ন ত্রায়োদশ সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৩ থেকে দল যদি আমার স্বচ্ছতা ও জনপ্রিয়তাকে বিবেচনা করে ধানের শীষ প্রতীক দেয় তাহলে তা নিয়ে নির্বাচন করবো , তা না হলে জনগণের মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো ইংশাআল্লাহ।
আমি বিজয়ী হলে সর্বপ্রথম কাজ হলো গাজীপুর-৩ আসনের জনগণকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ এবং দখলবাজ মুক্ত সমাজ উপহার দেয়া, আমার আসনে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করা, হার্টের চিকিৎসা ও আইসিইউ সুবিধা সহ ৫০০ আসন বিশিষ্ট একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা। গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের সেবাকে জনগণের কাছাকাছি পৌঁছেদিতে জনগণ চাইলে পার্শ্ববর্তী দুইটি ইউনিয়নকে সংযুক্ত করে উপজেলা পরিষদকে সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তর করবো। এবং উপজেলা পরিষদের ক্রয়কৃত ১৬ বিঘা জায়গা যার বাজর মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা যা দিয়ে সদর উপজেলার উন্নয়ন করলে জনসেবা বাড়বে, ভোগান্তি কমবে এবং উপজেলার সেবাটা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।