ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি।।
ভোলার চরফ্যাশন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২ দিনে পৃথক ৪টি সংঘর্ষে ২৫ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।পৃথক এ সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়েরের খবর পাওয়া গেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৪ ব্যক্তিকে।
এলাকা ও থানা সূত্র জানায়,পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আকতারুল আলম সামু উটপাখি প্রতিক নিয়ে শনিবার (১৩ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ১১টায় থানা রোডে গনসংযোগ করে। এসময় বিপরীত দিক থেকে একই ওয়ার্ডের জামাল উদ্দিন সবুজের পাঞ্জাবি প্রতিকের পক্ষে সবুজের ভাগিনা মিজানুর রহমান ও ছোট ভাই মামুন সহ সবুজের সমর্থকরা গনসংযোগকালে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিজানুর রহমান বাদি হয়ে চরফ্যাশন থানায় একটি এজাহার (মামলা নং-৩,তাং-১৩ফেব্রুয়ারি) দায়ের করলে পুলিশ মেহেদী হাসান,রিপন,গিয়াস ও মাইনুদ্দিনকে আটক করে ভোলা জেল হাজতে প্রেরন করে।
এছাড়া ১২ ফেব্রুয়ারি পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ডে পাঞ্জাবি প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কাউন্সিলর প্রার্থী ও চরফ্যাশন পৌর যুবদল সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাসেল তার সমর্থক ফারুক মাঝির মৃত্যুতে সকাল সোয়া ১১টায় ফারুক মাঝির কফিন দেখে তার বাড়ি থেকে বাহির হলে বাড়ির দরজায় প্রতিপক্ষ আবু জাহের ভূঁইয়ার কর্মীরা তার উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা রাসেলের গনসংযোগের বহরে থাকা ২টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে । মারধরের শিকার হয় রাসেলের সমর্থক ছাত্রদল নেতা মোঃ সেলিম,শ্রমিকদলের হেলাল উদ্দিন,জামাল হাওলাদার,হাছনাইন ও এমরান।
এদিকে ১২ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ১১টায় নির্বাচনী গনসংযোগকালে পৌর ৩নং ওয়ার্ডের অরুন চন্দ্র দাসের বাড়ির সামনে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়ে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি হয় সোহেল(২৮),ইউপি সদস্য কাজল মিয়া(৫৫),জাকির হোসেন(৩৫),ফখরুল ইসলাম(৩৫),শরীফ বাতান(২৫),মিজান(৩৬),রিয়াজ বাতান(২২) ও সুমন বাতান।এ ঘটনায় চরফ্যাশন থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে বলে আবুল কাশেম বাতান ও কাউন্সিলর প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন।
অপরদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার ও সেলিম হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গিয়াস উদ্দিন হাওলাদারের শোডাউনের বহরে থাকা ৮/১০টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়। আহত হয় গিয়াস উদ্দিন হাওলাদারের ১০কর্মী-সমর্থক। এ হামলার ঘটনায় সেলিম হাওলাদার ও গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার একে অপরকে দায়ী করেছেন।
শশীভূষন থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আবুল বাশার জানান,হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দুটি অভিযোগই তিনি তদন্ত করে দেখছেন বলে জানান।