৫২ বিশেষ ডেস্ক।।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কের চক্রবর্তী এলাকা থেকে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে বাসে উঠেছিলেন নওগাঁ সদরের মঞ্জুর মিয়া (৪৫)। সকাল আটটার দিকে কালিয়াকৈর পার হওয়ার পর প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বোনকে সঙ্গে নিয়ে বাস থেকে নেমেছিলেন তিনি। তাঁরা বাস থেকে নামার একটু পরেই ফাঁকা পেয়ে চালক সামনে এগিয়ে যান। ফিরে এসে মঞ্জুর মিয়া ওই বাসটি আর পাননি।
একদিকে যানজট, অন্যদিকে বাসটি তাঁদের ফেলে যাওয়ার কষ্ট। বাধ্য হয়েই আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে হাঁটা শুরু করেন তিনি। সকাল সোয়া নয়টার দিকে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হলে জানান, যত দূর পারেন হেঁটেই যাবেন বেক্সিমকোর এই কর্মচারী।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণেই তাঁদের এই দুর্ভোগ। মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে যানবাহন বিকল হওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে গতকাল গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া যানজট শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চলছে। যানজটের কারণে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী-শিশুদের দুর্ভোগ আরও বেশি হচ্ছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী যানবাহনের চালকেরা জানান, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গাতে একটি ট্রাক বিকল হলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এরপর ভাতকুড়া ও নাটিয়াপাড়া এলাকায় আরও কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়। পুলিশ রেকার দিয়ে ওই যানবাহনগুলো সরিয়ে নিলেও রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া রাত পৌনে তিনটার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্নঘটে। একপর্যায়ে যানজট বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই-ক্যাডেট কলেজ এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী বিস্তৃত হয়। বর্তমানে মহাসড়কে টাঙ্গাইল অংশের সম্পূর্ণ এলাকাতেই যানজট আছে।
আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মহাসড়কে দেখা যায়, ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের দিকে থেমে থেমে যানবাহন চললেও ঢাকার দিকের যানবাহনগুলো একেবারেই থেমে আছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসের চালক ওমর ফারুক জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে রাত একটার দিকে যানজটে পড়েন তিনি। সকাল নাড়ে নয়টার দিকেও তিনি মির্জাপুর অতিক্রম করতে পারেননি।
গাইবান্ধাগামী ভাই-বন্ধু পরিবহনের বাসচালক রবিউল ইসলাম জানান, গতকাল বিকেল পাঁচটায় তিনি ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে রওনা হন। রাত একটার দিকে গাজীপুরের চন্দ্রা পৌঁছান। সেখান থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত মাত্র ৩০ মিনিটের রাস্তা আজ সকাল সাড়ে আটটায় পার হন।
টাঙ্গাইলের ট্রাফিক পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, রাতে মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে যানবাহন বিকল হয়ে পড়েছিল। তা ছাড়া বৃষ্টিও হয়েছে। এ কারণে যানজট শুরু হয়। পুলিশ যানজট নিরসনে চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে তিন দিকেই প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কোনাবাড়ী মহাসড়ক পুলিশের পরিদর্শক আবু দাউদ জানান, গতকাল থেকে গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার শিল্পকারখানা ছুটি হওয়ায় ঘুরমুখী মানুষের সংখ্যাটা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। টাঙ্গাইলের দিক থেকে যানবাহন না যাওয়ায় চন্দ্রা পর্যন্ত যানজটের সারি লেগে আছে। শেষ রাত থেকেই মহাসড়কে যানবাহন স্থবির হয়ে আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চন্দ্রা থেকে গাজীপুর শহরের দিকে পল্লী বিদ্যুৎ বাজার, সফিপুর বাজার, মৌচাক, কোনাবাড়ীসহ যানজট ছাড়িয়ে ভোগরা বাইপাস পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।