সোহরাওয়ার্দী প্রদর্শনীতে শুরু হচ্ছে যাত্রা উৎসব
শিল্পকলা একাডেমি এবার মুক্তমঞ্চে যাত্রাপালা উপস্থাপন করার জন্য নিজের ক্যাম্পাসের বাইরে এসেছে। "যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ" এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হচ্ছে এই উৎসব ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। শুরুর দিন শুক্রবার। এই উৎসব চলবে সাত দিন, ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। সকলের জন্যই প্রবেশ উন্মুক্ত।
যাত্রা উৎসবে বাংলাদেশের সাতটি অঞ্চল থেকে আসা যাত্রা দল প্রতিদিন একটি ঐতিহাসিক অথবা সামাজিক ঘটনা নিয়ে যাত্রাপালা পরিবেশন করবে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই যাত্রাপালা দেখা যাবে। উৎসবের উদ্বোধন হবে আজ সন্ধ্যা ৬টায়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ইসরাফিল মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে আসবেন যাত্রাশিল্পী অনিমা দে। শিল্পকলা একাডেমির নাটক ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক ফয়েজ জাহির স্বাগত বক্তব্য দেবেন। এই উৎসবের সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, নাট্যকার ও শিক্ষক সৈয়দ জামিল আহমেদ।
এই উৎসবের ব্যাপারে মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, "শৈশবে আমরা সামাজিক যাত্রাপালা দেখে অনেক নৈতিক শিক্ষা পেয়েছি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে যাত্রাশিল্পকে ভিন্ন পথে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ করতে হবে। আমরা ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালাকে আবার জনজীবনে ফিরিয়ে আনতে চাই। এই উৎসব সেই লক্ষ্যে কাজ করবে।"
আজ প্রথম দিনের যাত্রাপালা হিসেবে পরিবেশিত হবে সুরুভি অপেরার ‘নিহত গোলাপ’। এর পালাকার আগন্তুক এবং পরিচালক কবির খান। এরপর আগামীকাল শনিবার নিউ শামীম নাট্য সংস্থার ‘আনারকলি’। এর পালাকার প্রসাদকৃষ্ণ ভট্টাচার্য এবং পরিচালক শামীম খন্দকার। ৩ নভেম্বর, রোববারে বঙ্গবাণী অপেরার ‘মেঘে ঢাকা তারা’। এর পরিচালক মানস কুমার এবং পালাকার রঞ্জন দেবনাথ।
এরপর, ৪ নভেম্বর, সোমবারে মঞ্চস্থ হবে নর-নারায়ণ অপেরার ‘লালন ফকির’। এর পরিচালক ব্রজেন কুমার বিশ্বাস এবং পালাকার দেবেন্দ্রনাথ। মঙ্গলবারে পরিবেশন করা হবে বন্ধু অপেরার ‘আপন দুলাল’। এর পরিচালক মনির হোসেন এবং পালাকার হামসুল হক। ৬ নভেম্বর, বুধবারে দেখা যাবে শারমিন অপেরার ‘ফুলন দেবী’। এর পরিচালক শেখ রফিকুল এবং পালাকার পুর্ণেন্দু রায়। শেষদিন, ৭ নভেম্বর, বৃহস্পতিবারে যাত্রাবন্ধু অপেরার ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ মঞ্চস্থ হবে। এর পরিচালক আবুল হাশেম এবং পালাকার শচীননাথ সেন।