ট্রাম্পের জয় ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে কী প্রভাব ফেলবে
৭৮ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। তার চার বছর মেয়াদে ২০২৬ সালে জুন-জুলাই মাসে কানাডা ও মেক্সিকোর সাথে যৌথভাবে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র।
ফিফা বিশ্বকাপের মূলনীতি হল "বিশ্বকে এক সুতায় গাঁথা"। আর ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ বিশ্বকাপে অংশ নেবে, যা আগের যেকোনো আসরের তুলনায় অংশগ্রহণকারী দেশ ও ম্যাচের সংখ্যা বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি। সুতরাং, ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রকে একা চালানোর এবং বিদেশিমুক্ত নীতির সঙ্গে ফিফা বিশ্বকাপের "একতাবদ্ধ" ও রেকর্ডসংখ্যক দেশের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বিপরীত।
এ পর্যন্ত পড়ে মনে হতে পারে যে, মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় বোধ হয় ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য "বিপর্যয়" হিসাবে দেখা দিয়েছে। কিন্তু আসলেই কি তাই? আর যদি ইতিবাচক কিছু হয়ও, তবে তা কীভাবে?
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো নতুন নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানাতে দেরি করেননি। তার বার্তা শুধু "অভিনন্দন, জনাব প্রেসিডেন্ট" বাক্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি আরও বিস্তৃত করেছেন "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমরা একটি অসাধারণ ফিফা বিশ্বকাপ এবং অসাধারণ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ পাচ্ছি" পর্যন্ত। উল্লেখ্য, জাতীয় দলগুলোকে নিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে, বিশ্বের ৬টি মহাদেশের ৩২টি ক্লাব নিয়ে ২০২৫ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপটিও আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র।
একটি বিশ্বকাপ আসর আয়োজনের অর্থ হল একটি বিশাল প্রচেষ্টা। একটির পর একটি পরিকল্পনা, একটির পর একটি স্তর। বিশ্বকাপের মূল আয়োজক হল ফিফা। লাভের অংশও তাদেরই বেশি। তবে আয়োজকদেরও একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষত স্থানীয় ব্যয় ও লজিস্টিক খাতে আয়োজক দেশকেই ভূমিকা রাখতে হয়। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজক কমিটিও করা হয়।
যেমন, ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের সময় ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন সরকার ও রাশিয়ান ফুটবল ইউনিয়ন যৌথভাবে একটি "কেন্দ্রীয় আয়োজক কমিটি" গঠন করেছিল। ২০২২ সালের আসরে কাতার গঠন করেছিল "সুপ্রিম কমিটি ফর ডেলিভারি অ্যান্ড লিগ্যাসি"। ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করবে বলে এবারও এমনই একটি স্থানীয় আয়োজক কমিটি আরও শক্তিশালীভাবে প্রয়োজন। ফাইনালসহ বেশির ভাগ ম্যাচ যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে হবে, দেশটির স্থানীয়, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অর্থায়ন ও পরিচালনার সহায়তার জন্য দ্রুতই কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। এখানেই মূল ভূমিকা পালন করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
বিশ্বকাপ আয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম, তাই আয়োজক দেশের সরকারের সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ বজায় রাখে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে জো বাইডেন প্রশাসন ও কংগ্রেসের সঙ্গে এখনই কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপের নিরাপত্তা বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা চেয়েছে ফিফা। এমনকি এ জন্য বাইডেন প্রশাসনের আন্তঃসরকার বিষয়ক কার্যালয়ে কাজ করা অ্যালেক্স সোপকোকে ফিফার হেড অব গভর্নমেন্ট রিলেশনস পদে নিয়োগও দিয়েছে।
তবে ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে যাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক ও যোগাযোগ স্থাপনে এবার হয়তো নতুন কারও কথা ভাবতে হবে ফিফাকে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনে নতুন ব্যক্তিরা আসবেন বলে কাজের ধারায় যে সম্ভাব্য ব্যাঘাত ঘটবে বা গতি কমবে, সেটি মাথায় রেখে এখনই উদ্যোগী হতে হবে ইনফ্যান্টিনোর নেতৃত্বাধীন ফিফাকে। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের একটি সূত্রও বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। নাম প্রকাশ না করা এই ব্যক্তি ইয়াহু স্পোর্টসকে ইমেইলে পাঠানো জবাবে বলেছেন, বর্তমান প্রশাসন বিশ্বকাপ নিয়ে কাজ শুরু করেছিল জানিয়ে বলেন, "আমার ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুতে বিশ্বকাপের দিকে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হবে। বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।"
তবে এই ক্ষেত্রে ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফ্যান্টিনো নিজেও একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। ২০১৮ সালে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচিত হন। সে বছরই ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ফিফা প্রধান। পরে ২০২০ সালে সুইজারল্যান্ডে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামেও দুজনের সাক্ষাৎ হয়। সেই সময় ইনফ্যান্টিনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করলে জবাবে ইনফান্টিনোকে "মহান বন্ধু" বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প।
এ বছরের মে মাসে আ