চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় পেট্রোলবোমার ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় খুচরা পেট্রাল বিক্রেতাদের তালিকা প্রণয়ন করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত জেলা সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন এ তথ্য জানান। এছাড়া কাদের কাছে এসব পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে তাও তদারকি করতে বলা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। নাশকতা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এরপরও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটছে।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অবরোধের মধ্যে নির্বিঘ্নে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য চট্টগ্রামের সব পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করার হচ্ছে। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রগুলোর আশপাশের সড়কে টহল বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
প্রতিরোধ কমিটি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নেতারা এসি রুমে বসে অনলাইনের মাধ্যমে নাশকতার নির্দেশ দিচ্ছেন আর ভাড়াটিয়া কিছু গরীব অসহায় লোক দিয়ে এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করাচ্ছেন। এদের নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করতে প্রত্যেক এলাকায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলুন।’
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হলে সরকার সহযোগিতা দিচ্ছে। কিন্তু তা পেতে কখনো কখনো সময়ের প্রয়োজন হয়। কারো চিকিৎসা সেবা বা অন্য কাজে প্রয়োজন হলে আমাদের নিজস্ব ফান্ড থেকে সহযোগিতা দেব।’
এসময় তিনি গত মঙ্গলবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের শুকলাল হাটে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ ট্রাক চালক ও সহকারীকে নিজের তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন।
এ সময় ডিসি বলেন, ‘কোনো পরিবহন মালিক তাদের গাড়ির ক্ষতিপূরণ দাবি করলে তিনি ক্ষতির শিকার যানবাহনগুলো বিআরটিএর মাধ্যমে ক্ষতি নির্ণয় করে তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে।’
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ২৮ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর তানভীর জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভিন্ন উপজেলায় বিজিবি পাহারায় গাড়ি পারাপার হচ্ছে। মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে নতুন দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং ৪১৫ জন বিজিবি সদস্য মহাসড়কে দিনরাত টহল দিচ্ছে। রাতে মহাসড়কে গাড়ি না থামানো এবং জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শও দেন তিনি।
বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. শহিদুল্লাহ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিনসহ পরিবহন সেক্টরের নেতা ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।