জীবন পাল, ৫২ শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি।।
চা বাগান অধ্যুষিত শ্রীমঙ্গলে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বড় হোটেল মোটেল গুলোতে চলছে জোর নির্বাচনী আলোচনা। প্রচারণায় থেমে নেই কেউ, শিশু, বালক, বৃদ্ধ সবাই মেতেছে এই প্রচারণায়। সকাল থেকে শুরু করে রাত অবদি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন প্রার্থীরা। আর দুপুর ২ টা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত চলছে নির্বাচনী প্রচারনার মাইকিং।
প্রার্থীরা তাদের মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য মিনতি করছেন ভোটারদের কাছে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন নির্বাচনে জিতলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সর্বাত্তক প্রচেষ্ঠা চালাবেন।
এদিকে চা বাগান এলাকা বেশী হওয়ায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একটু বেশীই পরিশ্রম করতে দেখা যাচ্ছে। তবে থেমে নেই আওয়ামীলীগ প্রার্থীরাও।
চা বাগান এলাকা নিয়ে জনমত আছে, চা শ্রমিক ভোটারদের বেশির ভাগই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে থাকেন যা এর আগে হয়ে যাওয়া নির্বাচনের পর্যবেক্ষন থেকে উঠে এসেছে। তবে বাগানের ভোটাররা এবার বলছেন অন্য কথা। এবার মার্কা দেখে নয় প্রার্থীর যোগ্যতা দেখে ভোট দিবেন তারা। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক চা শ্রমিক বলেন, “স্থানীয় নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এই নির্বাচনে আমরা ভোট দিয়ে সরকার গঠন করতে পারবো না। যখন জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার নৌকার ভোট আসবে তখন আমরা নৌকায় ভোট দেওয়ার কথা ভাববো। আর এই স্থানীয় নির্বাচনে আমরা যৌগ্য প্রার্থীদের দেখে ভোট দেব সে হোক আওয়ামীলীগ, বিএনপি বা স্বতন্ত্র”।
আর চা শ্রমিক নেতারা বলছেন, যদি ভোটের আগে বাগানের মদের দোকান গুলো কয়েকদিনের জন্য বন্ধ করা হয় তাহলে ভোটাররা মাথা খাটিয়ে যৌগ্য দেখে ভোট দিতে পারবেন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সুবিধে হবে।
বাগানের এদিকে উপজেলার রাজঘাট, কালিঘাট, সাতগাও এই তিনটি ইউনিয়নে বিএনপি এর কোন প্রার্থী নির্বাচনে লড়াই করছে না।
উপজেলা নির্বাচন অফিসসুত্রে জানা যায়, আগামী ২৮ মে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১১৬টি পদে প্রার্থী সংখ্যা মোট ৪৮০ জন।
এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৩ জন, সাধারন সদস্য (মেম্বার) পদে ৩৩২ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (মহিলা মেম্বার) পদে ১১৫ লড়াই করছেন। ১টি সাধারণ সদস্য পদের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ৯টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৫৬৭ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১০০টি।
১নং মির্জাপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৮ হাজার ৯৬১ জন (পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৫৪২ জন এবং মহিলা ভোটার ৯ হাজার ৪১৯ জন)। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন-আবু সুফিয়ান চৌধুরী (আওয়ামীলীগ), মোঃ সুফি মিয়া (বিএনপি), বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ ফিরুজ মিয়া (আওয়ামীলীগ বিদ্রাহী), হাজী মোঃ মস্তান মিয়া (জাতীয় পার্টি), সঞ্জয় চক্রবর্তী (স্বতন্ত্র) ও মোঃ শফিকুল ইসলাম (স্বতন্ত্র)।
২নং ভূনবীর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ১০টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ২৩ হাজার ২২৭ জন ভোটার জন ( পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৫৪৬ জন এবং মহিলা ভোটার ১১ হাজার ৬৮১ জন)। বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রসিদ (আওয়ামীলীগ), মোঃ চেরাগ আলী (আওয়াস্বতন্ত্র)-আনারস, মোঃ ফারুক আহমদ (বিএনপি), সুফিয়া বেগম (স্বতন্ত্র) ও শাহ মেহাম্মদ আলী মিয়া (স্বতন্ত্র)।
৩নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ১৫টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ৩৬ হাজার ৪৫ জন (পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ৪৩ জন এবং মহিলা ভোটার ১৮ হাজার ২ জন)। বর্তমান চেয়ারম্যান ভানুলাল রায় (আওয়ামীলীগ), মোঃ ইমাদ আলী (বিএনপি), আফজাল হক (আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী) ও দুধু মিয়া (স্বতন্ত্র)।
৪নং সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ১২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ২২ হাজার ৩০৫ জন (পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ২৩৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১১ হাজার ৬৭ জন)। বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হেলাল (আওয়ামীলীগ), ইয়াছিন আরাফাত রবিন (বিএনপি), বদরুল ইসলাম সোহেল (জাতীয় পার্টি), আবু কামাল খায়রুজ্জামান (বিএনপি বিদ্রোহী) ও অরুন দেব (স্বতন্ত্র)।
৫নং কালাপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ১১টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ২৩ হাজার ৫৫৯ জন (পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৮৪৬ জন এবং মহিলা ভোটার ১১ হাজার ৭১৩ জন)। বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মতলিব (আওয়ামীলীগ), মোঃ আব্দুল হাই (বিএনপি), মোঃ কামাল হোসেন (জাতীয় পার্টি) ও মুজিবুর রহমান (স্বতন্ত্র)।
৬নং আশিদ্রোন ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ১৪টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ২৭ হাজার ৪৫৮ জন (পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ৮৪২ জন এবং মহিলা ভোটার ১৩ হাজার ৬১৬ জন) বর্তমান চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন জহর (আওয়ামীলীগ), মোঃ তাজ উদ্দিন (বিএনপি) ও মকসুদুর রহমান (স্বতন্ত্র)।
৭নং রাজঘাট ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ১০টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ১৮ হাজার ২০৩ জন (পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ১২৬ জন এবং মহিলা ভোটার ৯ হাজার ৭৭ জন।) বর্তমান চেয়ারম্যান বিজয় বুনার্জী (আওয়ামীলীগ) ও মাখন লাল কর্মকার (আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী
৮নং কালিঘাট ইউনিয়ন : ৯টি ওয়ার্ডে ১০টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ১৫ হাজার ২৫১ জন (পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৬৯৯ জন এবং মহিলা ভোটার ৭ হাজার ৫৫২ জন) বর্তমান চেয়ারম্যান প্রানেশ গোয়ালা (আওয়ামীলীগ) ও পরাগ বাড়ই (স্বতন্ত্র)।
৯নং সাতগাও ইউনিয়ন : ৯টি ওয়ার্ডে ৯টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ৮ হাজার ৫৫৮ জন (পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং মহিলা ভোটার ৪ হাজার ২৭২ জন। বর্তমান চেয়ারম্যান রঘুনাথ দেব রিংকু (আওয়ামীলীগ) ও মিলন শীল (আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী)।
ইউনিয়নওয়ারী পরিসংখ্যানে দেখা যায় এবার সবচেয়ে বেশি ভোটার ৩নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নে (মোট ভোটার সংখ্যা : ৩৬ হাজার ০৪৫ জন) এবং সবচেয়ে কম ভোটার সাতগাও ইউনিয়নে (মোট ভোটার সংখ্যা : ৮ হাজার ৫৫৮ জন।
আগামী ২৮ মে ৫ম দফায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। বাঘা বাঘা প্রার্থীদের এ ভোটযুদ্ধে নিস্তব্ধ সাধারণ ভোটারগণ। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রচারের উত্তাপ। মাঠে-ঘাটে, হোটেল-রেস্তোরাঁয় থেকে পথের ধারের চায়ের দোকানেও প্রার্থীদের ভাল-মন্দের দিক নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লে¬ষণ। ভোটাররা নিজের পছন্দের প্রার্থী বেছে নিলেও মুখ খুলছেন না। নির্বাচনে সব ইউনিয়নেই পাল্ল¬া দিয়ে চলছে আচরন বিধি লঙ্ঘনের প্রতিযোগিতা। বেশ ক’টি ইউনিয়নে চলছে কালো টাকার ছড়াছড়ি। প্রার্থীরা নানা কৌশলে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নয়নে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্র“তি। আরামের ঘুম হারাম করে কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা। কমলগঞ্জের ৯ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদন্ধিতা করছেন ৩৭ প্রার্থী। ৮১টি ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩২৮ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৮৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। কমলগঞ্জ উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯৭০ জন। রিটার্নিং অফিসার ৫ জন, মোট ভোটকেন্দ্র ৯৪টি, মোট কক্ষ (বুথ) ৪২৫টি। মোট ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ১৩৬৯ জন।
১ নং রহিমপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপির ছোট ভাই কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ইফতেখার আহমেদ বদরুল নৌকা) এর সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দিতায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাজিম আহমদ তরফদার (ধানের শীষ)। এই ইউনিয়নে মাত্র দুইজন প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। উভয় প্রার্থীর সুর সমান তালে চলছে। গোটা কমলগঞ্জ তথা মৌলভীবাজার জেলার মানুষজন এই ইউনিয়নের দিকে চেয়ে আছেন। উভয় প্রার্থীরা দেওরাছড়া চা বাগান, মিরতিংগা চাবাগান ও কালেঙ্গায় ভোট সেন্টারের দিকে নজর দিচ্ছেন। কারণ তিনটি সেন্টারেই হিসাব নিকাশে বোঝা যাবে কে হচ্ছেন চেয়ারম্যান? সাধারণ মানুষের ধারনা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
২নং পতনউষার ইউনিয়নে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তবে মুল লড়াই হবে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ তওফিক আহমদ বাবু (নৌকা) ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অলি আহমদ খান (ধানের শীষ) এর মধ্যে। এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনীত জরিফ হোসেন জাহিদ (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুর রহমান বাদশা মোটর সাইকেল), বদরুজ্জামান চৌধুরী (চশমা), শেখ আসাদুজ্জামান চৌধুরী (আনারস) ও আজিজ চৌধুরী (ঘোড়া)। এই ইউনিয়নে লাঘাটা নদীর এপার ওপার নিয়ে কিছু আঞ্চলিক ভোট ফ্যাক্টর হলেও তৃতীয় বারের মতো প্রতিদ্বন্দিতাকারী সর্বমহলের কাছে সুপরিচিত ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমদ বাবুর পাল্লা ভারী রয়েছে বলে ভোটারদের অভিমত।
৩নং মুন্সীবাজার ইউনিয়নে মোট ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালিব তরফদার (নৌকা) এর সাথে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সফিকুর রহমান চৌধুরী (ধানের শীষ) এর সঙ্গে লড়াই হবে। অন্য প্রার্থীরা হলেন বিদ্রোহী আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাজেদা কোরেশী (আনারস) ও বিদ্রোহী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ রফিকুল হক (মোটর সাইকেল)। এখানে লড়াই হবে দ্বিমুখী। আব্দুল মোতালিব তরফদারের সুর অনেক এগিয়ে রয়েছে তবে সফিকুর রহমান চৌধুরীর ভোট নিরব ভূমিকা পালন করছে।
৪নং শমশেরনগর ইউনিয়নে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নির্ভর করছে চা শ্রমিকদের ওপর। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দিতা হবে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী জুয়েল আহমদ (নৌকা) এর সাথে বিদ্রোহী আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আবদুল গফুর (আনারস)। অন্য প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ আব্দুল মোহিত (ধানের শীষ), বিদ্রোহী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আহমদুর রহমান (মোটর সাইকেল) ও বিদ্রোহী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ এনামুল হক শামীম (চশমা)। এ ইউনিয়নের তিনটি চা বাগানের ভোটে প্রত্যেকেই ভাগ বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এখানে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও বিদ্রোহী আওয়ামীলীগের মোঃ আব্দুল গফুরের সুর বেশি রয়েছে।
৫নং কমলগঞ্জ ইউনিয়নে লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে। এখানে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করলেও মূলত লড়াই হবে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া শফি (ধানের শীষ) এর সাথে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মোঃ আব্দুল হান্নান (নৌকা) এর প্রতিদ্বন্দিতা হবে। অন্য প্রার্থীরা হলেন-জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোঃ আব্দুল আজিজ (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী সফিকুল ইসলাম সফি (আনারস) ও বিদ্রোহী আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম হোসেন (মোটর সাইকেল)। বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া শফির সুর বেশি রয়েছে বলে মাঠ পর্যায়ে জানা যায়।
৬নং আলীনগর ইউনিয়নে মোট ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ফজলুল হক হক বাদশা (নৌকা) এর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সম্পাদক সাংবাদিক শাহীন মিয়া (আনারস) ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মোঃ আব্দুল আহাদ (ধানের শীষ) এর লড়াই হবে। এছাড়া প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সালাম (লাঙ্গল)। এ ইউনিয়নে এবার পরিবর্তনের সুর উঠেছে। এবার প্রথম বারের মতো উদীয়মান সাংবাদিক শাহীন মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনের সুর ওঠে আলীনগর ইউনিয়ন জুড়ে।
৭নং আদমপুর ইউনিয়নে মোট ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতায় রয়েছেন। তবে মুল প্রতিদ্বন্দিতা হবে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সাব্বির আহমদ ভূঁইয়া (নৌকা) এর সাথে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ আবদাল হোসেন (ধানের শীষ) এর সাথে। অন্য প্রার্থীরা হলেন-বিদ্রোহী আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ হাজির বক্স (ঘোড়া) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আব্দুল হাই (আনারস)। এ ইউনিয়নে মূল লড়াই হবে আবদাল হোসেন ও সাব্বির আহমদ ভূঁইয়ার মধ্যে।
৮নং মাধবপুর ইউনিয়নে মোট ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। চা বাগান অধ্যুষিত এ ইউনিয়নে মূলত লড়াই হবে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আসিদ আলী (নৌকা) এর সাথে বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা পুষ্প কুমার কানু (সিএনজি) এর সাথে। কৌশলগত কারণে বর্তমান চেয়ারম্যান চা শ্রমিক সন্তান পুষ্প কুমার কানু এবার বিএনপির মনোনয়ন নেননি। এখানে অন্য প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এম হারুনুর রশীদ (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কমলা বাবু সিংহ (আনারস)। এখানে প্রার্থীদের ভাল-মন্দ সবকিছুই ভোটাররা ওয়াকিবহাল। তাই নেই কোন নির্বাচনী উত্তাপ। তবে ভয় কাজ করছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। চা বাগান ও মণিপুরী অধ্যুষিত থাকায় উভয় প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে না। ভোটারা জানান, মন্তব্য করবো না। সময় মত জেনে নেবেন। তবে বর্তমান চেয়ারম্যানের অবস্থান ভালো রয়েছে বলে মাঠ পর্যায়ে বোঝা যাচ্ছে।
৯নং ইসলামপুর হচ্ছে কমলগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন। সবুজ আর পাহাড় ঘেরা চা বাগান অধ্যুষিত এ ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দিতায় রয়েছেন আপন দুই ভাই। বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ সুলেমান মিয়া (নৌকা) এর সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দিতা হবে বড় ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আবদুল হান্নান (আনারস) এর মধ্যে। এ অঞ্চলে কার অবস্থান কেমন হবে সাধারণ ভোটারাই বলতে অক্ষম। সমান তালে চলছে প্রচারণা। ভাই ভাই যুদ্ধে কে জয়ী হবে, কে হবে এই ইউনিয়নের পিতা দেখার বিষয়। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা?