ধর্ম ও জিবন
আনোয়ারুল হক আনোয়ার,
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা চরম অস্থিকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সমস্যা, মুসলিম দেশের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি এমনকি ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে এক দেশ অপর দেশের বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্র করছে। আর এ সুযোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংখ্যালঘু মুসলমানরা সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের রক্ত ঝরেছে। বিতাড়িত করা হয়েছে নিজ জন্মভূমি থেকে। আবার পশ্চিমাদের অকৃত্রিম বন্ধু মুসলিম বেশ কয়েকজন শাসককে শেষতক চরম পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।
বর্তমানে ইসলাম বিরোধীরা শিয়া-সুন্নি ইস্যুকে নিয়ে খেলায় মেতে উঠেছে। অনাহুত বিষয়টিকে নিয়ে কতিপয় মুসলিম দেশ দুর্ভাগ্যজনকভাবে আত্মঘাতী বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। আবার কতিপয় পশ্চিমা দেশ ইসলামের নামে কিছু অস্ত্রধারী গোষ্ঠী সৃষ্টি করে মুসলিম দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। যার ফলে বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল বৃদ্ধি পাচ্ছে। মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ, নামাজে জানাযা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিয়েশাদী থেকে শুরু করে হাটবাজারে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অসংখ্য মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এসব দৃশ্য দেখে ইসলাম বিরোধীরা দাঁত বের করে হাসছে।
আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়ার পর এখন সিরিয়ায় যুদ্ধ চলছে। এক্ষেত্রে তুরস্ক ও মিশরের ভূমিকা বিতর্কিত বলে প্রতীয়মান হয়। ইয়েমেনে সৌদি আরব একতরফা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। উদ্দেশ্য ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত হাদি সরকারকে ক্ষমতায় বসানো। মুসলমানদের অনৈক্যের কারণে বসনিয়ায় মুসলমানদের ওপর যে নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে- সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতাকে হার মানায়। সর্বশেষ মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতন এমনকি দলে দলে নারী-পুরুষ-শিশুদের দেশত্যাগে বাধ্য করার ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলো কিছুই করতে পারেনি।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের প্রধান টার্গেট হচ্ছে ইরান। ইরানের ওউপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে দেশটি সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী হবে এবং দেশটি সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ আরব দেশগুলোর জন্য ‘মহা হুমকি’ হয়ে দাঁড়াবে- এ ধরনের জুজুর ভয়ে এসব দেশ হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করে আমেরিকাসহ তার মিত্রদের থেকে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ক্রয় অব্যাহত রেখেছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে- ইরানের ভয় দেখিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ক্রয়ের কি প্রয়োজন? ইরানের সাথে এসব দেশের সূসম্পর্ক গড়ে উঠলে তো গোটা মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম উম্মাহ আরো শক্তিশালী হবার কথা। কিন্তু অনাহুত ও সন্দেহের বশবর্তী হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা মোটেই কাম্য নয়। এতে করে বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এটা এখন সময়ের দাবি। একে অন্যকে ভালো না লাগার বিষয়টি বিতর্কের উর্ধ্বে রেখে মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে ‘মুসলিম ঐক্য’ স্থাপন করতে হবে। প্রয়োজনে ওআইসিকে এ কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যদি মুসলামানদের মধ্যে অনৈক্য বৃদ্ধি পেতে থাকে- তাহলে সংঘাত আরো বৃদ্ধি পাবে। যার পরিণামে বিশ্বে মুসলমানদের আরো রক্ত ঝরবে। মুসলিম দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে আত্মঘাতী সংঘাত অব্যাহত থাকবে এমনকি অনেক মুসলিম দেশ পরাধীন হয়ে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
লেখক : সিনিয়র রিপোর্টার ও আন্তর্জাতিক গবেষক।