৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
বাংলাদেশের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। একটি বছর পার হলেও তনুর ঘাতকরা আজও শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার হয়নি। যতই দিন যাচ্ছে সুষ্ঠু তদন্ত আর বিচার পাওয়া নিয়ে স্বজনদের মাঝে সংশয় আর হতাশা ততই বাড়ছে।
এদিকে, তনুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ (সোমবার) মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাড়িতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।
ওদিকে, মামলার ব্যাপারে চুপ থাকতে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তনুর মা আনোয়ারা বেগম জানিয়েছেন, রোববার দুপুরেও একটি টিঅ্যান্ডটি নম্বর থেকে তনুর বাবাকে হুমকি দেয়া হয়েছে। একটি সংস্থার নাম উল্লেখ করে তনুর বাবাকে বলা হয়েছে, তিনি চাকরি করতে চান কিনা। চাকরি করতে চাইলে চুপ থাকতে বলা হয়েছে। মিডিয়ার সঙ্গে এত কথা বলার দরকার নাই বলে জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তনুর বাবা ইয়ার হেসেন রেডিও তেহরানকে জানান তাদের অসহায়ত্বের কথা। তিনি জানান, তনুর মা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে বেদনার কথা বলতে চান, কিন্তু কীভাবে তা সম্ভব সেটা জানে না পরিবারটি।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গল থেকে গত বছরের ২০ মার্চ রাতে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবি’র পর গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি-কুমিল্লা। ঘটনার পর পর ঘাতকদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন মহলসহ দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও ধীরে ধীরে সবই থেমে গেছে। তনুর লাশের দুই দফা ময়নাতদন্ত, মামলার তদন্তকারী সংস্থা ও কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটির দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয় নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং সিআইডি-কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, “নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সেনাবাহিনীর মহড়া হয়। ওই সময় আমরা সন্দেহভাজনদের নিয়ে কাজ করতে পারিনি। ফেব্রুয়ারিতে কিছু কাজ করেছি। তনুর লাশের পাশে পড়ে থাকা সেন্ডেল, কলম, মোবাইল ফোন ও ব্যাগসহ কয়েকটি জিনিসের ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। রিপোর্ট পেলে আরও বেশি কাজ করা যাবে। আশা করছি দ্রুত একটা রেজাল্ট দিতে পারব।”