নূরুল আমিন, ভোলা ।।
ভোলার চরফ্যাসন দুলারহাট আদর্শ ডিগ্রী কলেজের ২০ শিক্ষককে কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে তালা ঝুলিয়ে দু’ঘন্টা অবরুদ্ব করে রাখেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোস্তফা কামাল সহ ৩০/৩২ জন সন্ত্রাসী।বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষক অবরুদ্বের খবর পেয়ে চরফ্যাসন থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আবুল বাশার পুলিশ পাঠিয়ে অবরুদ্ব শিক্ষকদেরকে বেলা ২টায় উদ্ধার করেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,ইংরেজী প্রভাষক পদে নিয়োগ লাভের জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ নানা রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নুরাবাদ এলাকার যুবলীগ নেতা মোস্তফা কামাল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন চলছে নানা রকম নাটকীয়তা। কখনো কলেজে তালা,কখনো অধ্যক্ষকে অপদস্ত,কখনো ছাত্র/ছাত্রীদেরকে মারপিট সহ চলছে নানা রকম তালবাহানা।এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার এ ঘটনার সৃষ্টি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ এ,কে,এম শাহ আলম খোকন বলেন,সরকারী বিধি মোতাবেক এ কলেজটিতে দু’জন ইংরেজী প্রভাষকের প্রাপ্যতা রয়েছে। প্রাপ্যতা অনুযায়ী ফিরোজ আলম ও মোশাররফ হোসেন নামের দু’জন ইংরেজী প্রভাষক ইতোমধ্যে কর্মরত আছেন। ওই দু’জন প্রভাষক এমপিও ভুক্ত হয়ে সরকারী বেতন-ভাতা ভোগ করায় মোস্তফা কামালকে ৩য় কোঠা ছাড়া নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সে ৩য় কোঠায় নিয়োগ না নিয়ে একের পর এক কলেজে নানা রকম অঘটন করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহীকতায় আজকের এ ঘটনা বলে ও উল্লেখ করেন কলেজ অধ্যক্ষ এ,কে,এম শাহ আলম খোকন। অধ্যক্ষ আরো জানান,মোস্তফা কামাল কলেজে নিয়োগ নিতে চান, অথচ কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে,বিভিন্ন সময় আমাকে অপদস্ত করে, ছাত্র/ছাত্রীদেরকে মারপিট করে আবার বুধবার শিক্ষকদেরকে তালা ঝুলিয়ে অবরুদ্ব করে রেখে কিভাবে এ কলেজে নিয়োগ পাওয়ার আসা করেন তা আমার জানা নেই।
এদিকে অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল জানান,আমাকে ইংরেজী প্রভাষক পদের বৈধ পদে নিয়োগ দিবেন বলে কলেজ অধ্যক্ষ এ,কে,এম শাহ আলম খোকন এর নেতৃত্বে কলেজের সকল প্রভাষকগন আমার বাড়ীতে ভুড়িভোজ করেছেন । আমাকে কলেজে পাঠদানের অনুমতি দিয়েছেন।এবং আমি নিয়মিত পাঠদান করে আসছি,এরমধ্যে জানতে পারলাম আমাকে নিয়োগ না দিয়ে মোশাররফ হোসেন নামের একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন।এমনকি তিনি এমপিও ভুক্ত হয়েছেন তাই আমার এ পথ ছাড়া অন্য পথ আর আছে কি ? আমি প্রতারনার স্বীকার তাই বাধ্য হয়ে এ পথগুলো বেছে নিয়েছি।স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে অনেক নেতাদের দারস্থ হয়েছি। কেউ আমার বিষয়টি বুঝতে চায়না।আপনারাই বলেন আমার এ প্রতারনার বিচার করবে কে ? তবে এ ঝামেলা করে তিনি নিয়োগ পাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন জবাব দেন নি।
এ ব্যাপারে চরফ্যাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বসার জানান,কলেজের ২০/২৫জন শিক্ষক অবরুদ্ব হয়ে আছেন খবর পেয়ে ফোর্স পাঠিয়ে দিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেছি।পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।তাই কাউকে আটক করা সম্ভব হয় নি।