ইয়ামিন হোসেন, ৫২ ভোলা থেকে।।
ভোলায় শেষ সময়ে এসে জমে উঠছে শীত বস্ত্রের বাজার। ভ্রাম্যমাণ, ফুটপাত থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমলে শীতের পোশাকের উপস্থিতি সাক্ষ্য দিচ্ছে জমজমাট হতে শুরু করেছে শীত বস্ত্রের বাজার। শীতের শুরুতেই শীত বস্ত্র কেনাকাটা জমে উঠেছে। গরম,মোটা পোশাক, লেপ তোষকের দোকানে এখন ক্রেতাদের ভিড়। শীতের পোশাক কিনতে নিম্ন আয়ের মানুষ ছুটছে ফুটপাত এবং অপেক্ষাকৃত স্বল্পমূল্যের মার্কেটে। নামী-দামি শপিংমলগুলোতে বাড়ছে উচ্চবিত্তদের ভিড়। ভোলার নতুন বাজারের হর্কাস মার্কেটের দোকানি রাব্বি বলেন, ‘শীতের কাপড় তুলেছি। অনেকেই শেষ সময়ে এসেও শীতের কাপড় কেনা শুরু করেছেন।’ শীত বস্ত্র ব্যবসায়ীরা বাহারী ডিজাইনের জ্যাকেট, কার্ডিগান, সোয়েটার, শাল, জাম্পার, মাফলার, ট্রাউজার, কানটুপিসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক শীত বস্ত্রে দোকান সাজিয়েছেন। পুরাতন পোশাকের (গাইট) চাহিদাও নেহাত কম নয়।

ফুটপাতে শীতের পোশাক কিনতে আসা রুজিনা বেগম জানান, ‘সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে থাকায় এখান থেকেই পোশাক কিনি।’ শীতের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রকারভেদে জ্যাকেট ২০০টাকা থেকে ৭০০০ টাকা, সোয়েটার ১৫০-৩০০০টাকা, গায়ের চাদর বা শাল ৩০০-৩৫০০ টাকা, জাম্পার ২০০-১৪০০ টাকা, মেয়েদের লং জ্যাকেট ১০০০ টাকা থেকে ৪৫০০টাকা, হুডি ৭০০-২৫০০ টাকা, মাফলার ২০০-৮০০ টাকা, কানটুপি ৪০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অভিজাত শপিংমল ও মার্কেটে এসকল পোশাকের গুণগত মান ও দামে পার্থক্য রয়েছে। পোশাক বাজারের স্বত্বাধিকারী রবিন দে জানান, শীত বস্ত্রের বেচা বিক্রিতে পুরো মার্কেট জমে উঠেছে। শপিং-এ আসা বাংলা বাজার নিবাসী ছাত্র তানিম বলেন, ‘প্রতিবছরই নতুন শীতের পোশাক কিনি। তবে এ বছর দাম কিছুটা বেশি।’ এছাড়া নামী ব্রান্ডের স্টিকার লাগিয়ে অনুন্নত শীতবস্ত্র বিক্রিরও অভিযোগ করেন তিনি। শীতে লেপ তোষকেরও চাহিদা থাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা। নতুনের পাশাপাশি লেপ-তোষক ভেঙে নতুন করেও বানাচ্ছেন অনেকেই। চকবাজারের ব্যবসায়ী আবদুর কাদের জানান, সারা বছরের এই ২-৩ মাস ভিড় ও বেচাকেনা বেশি থাকে। শীতের তীব্রতার পাশাপাশি ধীরে ধীরে লেপ-তোষকের চাহিদা আরও বাড়বে। এছাড়া উষ্ণতার কারণে ব্যবহৃত জাজিমের কদর থাকায় এটি তৈরী এবং বিক্রিও বাড়ছে। ভ্রাম্যমাণ কারিগরেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে লেপ-তোষক বানিয়ে দিচ্ছেন। চাহিদানুযায়ী বিক্রি বাড়ছে শীত সংশ্লিষ্ট প্রসাধন সামগ্রীরও। স্বাস্থ্য সচেতন নারী-পুরুষ এবং শিশুদের ব্যবহার্য দেশি-বিদেশি লোশন,ক্রিম,ভ্যাসলিনের বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া। তবে নকল প্রসাধনী সামগ্রীর ব্যাপকতার ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্রেতা নাজিউর রহমান কলেজের ছাত্রী সোনিয়া ইসলাম পাখি। মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর এসব প্রসাধনী বাজারজাতকরণের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধির দাবিও জানান তিনি।