রাজনৈতিক জোটগুলির দাবির বিষয়ে বৈঠক, সাংবিধানিক সংকট এড়ানোর আহ্বান জানাল বিএনপি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে ১২ দলীয় জোট এবং গণ অধিকার পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের বিষয়ে প্রধান দল বিএনপি আবারও তাদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার অন্তর্বর্তী সরকারকে এ বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি করা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১২ দলীয় জোট এবং গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছে। বিএনপির সঙ্গে এসব রাজনৈতিক দলও যৌথভাবে আন্দোলন করছে।
রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানাননি মির্জা ফখরুল। শনিবার দুপুরে মালিবাগে একটি দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জোটটি রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য সমর্থন করেছে। তারাও রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য করে সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে চায় না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতাদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকের পর ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে জানান, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে এতে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে এবং নির্বাচন পেছানোর আশঙ্কা থাকছে। তারা এটি চায় না। তারা বৈঠকে তাদের এই অবস্থান জানিয়েছেন।
গণ অধিকার পরিষদও এ মুহূর্তে রাষ্ট্রপতির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের পক্ষে নয়। তারা ভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। দলটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করে তারপর রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নসহ অন্যান্য বিষয়ের সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতাদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে।
শাহাদাত হোসেন আরও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য না হলে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা সমাবেশ ও অন্যান্য আন্দোলনের কর্মসূচি নেবেন বলে তাদের জানিয়েছেন। বিএনপিসহ সকল দল যদি বিষয়টিতে একমত হয়, তবে তারাও এটি বিবেচনা করবে।
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক প্রথম আলোকে বৈঠকের পর জানান, রাষ্ট্রপতির বিষয়সহ আরও অনেক সংকট সামনে আসতে পারে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। তাই তারা এখন রাষ্ট্রপতির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করা দরকার। তবে তিনি বলেন, রಾষ্ট্রপতিকে অপসারণের প্রশ্নে রাজনৈতিক ঐকমত্য না হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা আন্দোলনের কর্মসূচি নেবেন বলে তাদের জানিয়েছেন। বিএনপিসহ সকল দল যদি এ বিষয়ে একমত হয়, তবে তারাও এ বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
এ বিষয় নিয়ে চার দিন ধরে চারটি দল এবং একটি জোটের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এই দলগুলির মধ্যে কেবল জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন ছাত্রনেতাদের রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবির পক্ষে মত দিয়েছে। বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলি রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পক্ষে না থাকলেও তারা এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে নয়।
১২ দলীয় জোট এবং গণ অধিকার পরিষদ বৈঠকে আমাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। তারা রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ চায়। কিন্তু রাষ্ট্রপতির অপসারণ কিভাবে হবে এবং পরে কে আসবে, এই বিষয়ে সুস্পষ্ট আলোচনা চেয়েছে ১২ দলীয় জোট। গণ অধিকার পরিষদ বলেছে, সকল রাজনৈতিক দল মিলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা শনিবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবারও তারা বিএনপির তিন নেতার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। শনিবারের বৈঠকে বিএনপির নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা রাষ্ট্রপতিকে অপসারণসহ ছাত্রনেতাদের অন্যান্য দাবি নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
তবে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে এ বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘গণ অ