কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় ও মাছের খামার থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তার অনুসারীসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।
আজ, বুধবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতে মুরাদনগর উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজি এবং আইনজীবী মহসীন মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি মাছের খামারে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দুটি করেছেন। রাতেই মামলাগুলো নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার সব আসামি পলাতক। তাদের ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ।
বাদী ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন মুরাদনগর উপজেলা সদরের নায়েব আলীর ছেলে। আর মহসীন মিয়া উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের ছেলে।
আলমগীর হোসেনের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২০ মার্চ রাতে উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন মোহাম্মদীয়া ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী আলমগীর হোসেন তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের নির্দেশে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ৪০ থেকে ৪৫ নেতা-কর্মী ও সন্ত্রাসী দেশি অস্ত্র নিয়ে দোকানে এসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাঁরা দেশি অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মাথা, হাত, পায়ে রক্তাক্ত জখম করেন। এ সময় হামলাকারীরা দোকানে থাকা ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। মামলায় আসামি হিসেবে ১৫ জনের নাম উল্লেখ ও ৪০ থেকে ৪৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
আইনজীবী মহসীনের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের দড়িকান্দি বিলে মোল্লা ফিশারিজ নামের মাছের খামার গড়ে তোলেন তিনি। ওই খামার দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের কাছে বছরে ১৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় ভাড়া দেন তিনি। খামারে মাছ চাষের পর ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মিজানুর রহমান যখন মাছ ধরতে আসেন, তখন সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের নির্দেশে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার খামার গ্রামের রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ সন্ত্রাসী এসে খামারে মাছ ধরা বন্ধ করে দেন। তাঁরা ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে খামারের মাছ ধরতে দেবেন না বলে হুমকি দেন তাঁরা। এ সময় বাধ্য হয়ে খামারের এক বছরের ভাড়ার ১৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা রূপালী ব্যাংকের একটি হিসাব নম্বর থেকে সাবেক সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে চেকের মাধ্যমে রফিকুল ইসলাম জোরপূর্বক আদায় করেন। এ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন ও রফিকুল ইসলামকে আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।