
এম.এ কাশেম কাতার থেকে ।।
মাথাপিছু আয়ের হিসাবে বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ কাতার। দেশটিতে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন ৩ লাখের ও বেশী প্রবাসী বাংলাদেশি। কিন্তু বাংলাদেশি শ্রমিকদের বেশিরভাগের বসবাসের জায়গা নিম্নমানের হওয়ায় আবাসন সংকটে রয়েছে ফ্রি ভিসায় আসা বাংলাদেশী শ্রমিক।
কাতারে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানীতে আসা গুটিকয়েক ছাড়া তুলনা মুলকভাবে শ্রমিকদের বাসস্হানের মান ভাল । সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাস শ্রমিকদের নানারকম সমস্যার উপর সমীক্ষা চালিয়ে কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেন এসব জটিল সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষে গুরুত্ব সহকারে কাজ ও করে যাচ্ছে ।সরেজমিনে দেখা যায় সম্প্রতি দালালদের হাত থেকে শ্রমিকদের রক্ষার জন্য ভিসা সত্যায়ন প্রক্রিয়া চালু করে জালিয়াতিচক্র রোধ করতে সক্ষম হয়েছে।এটার উপর গুরুত্বরোপ করায় বাংলাদেশ দূতাবাস ভূয়সী প্রশংসার কুড়িয়েছেন সর্বমহলে।
বর্তমানে ভিসা সত্যায়নের সময় কোম্পানীর যাবতীয় বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনাসহ যথাযথ কর্মস্হান আবাসন ব্যবস্হা নিশ্চিতকরন সহ নানা বিষয়ের খোজ নেওয়ার পরই ভিসার সত্যায়ন কাজ সম্পাদন করছে কাতারস্হ বাংলাদেশ দূতাবাস ।এ ব্যাপারে কাতারে বসবাসরত শ্রমিকেরা বাংলাদেশ দূতাবাসকে সাধুবাদ জানান।কারন হিসাবে প্রবাসী ব্যবসায়ীরা বলেন বর্তমান সময়ে দূতাবাসের সব ধরনের সেবার মানও সহযোগিতা পাওয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিকদের জীবন যাত্রার মান ও পরিবর্তন হয়ে শ্রমিকদের মান এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন ।তবে কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশী শ্রমিক বিগত দিনে নানা কোম্পানির সাথে চুক্তিপত্র থাকায় কিছুই করতে না পারলেও সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাস আন্তরিক ভাবে কাজ করতে দেখে গেছে।
বর্তমানে কাতারে বাংলাদেশী শ্রমিকেরর প্রচুর চাহিদা থাকায় বিভিন্ন দেশী-বিদেশী কোম্পানীতে বাংলাদেশী দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কাতারের ২০২২ সালের বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নানা রকম উন্নয়ন ও দালান ইমারতের কাজ চলছে দুরন্ত গতিতে।এসব প্রকল্পে বাংলাদেশী দক্ষ শ্রমিকদের চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানীতে।
কাতারে আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দূর্বার গতি উন্নয়নমুলক কাজ করে যাচ্ছে কাতার সরকার। কাতারের রাজধানী দোহা’র বিভিন্ন জায়গায় দেখা মিলবে রঙিন উঁচু দালান বদলে যেতে বসেছে পূর্বেকার চিত্র।এবং দিন দিন ছাড়িয়ে যাচ্ছে আমেরিকা বা ইউরোপের মত উন্নত দেশগুলোর সুউচ্চ ইমারত।
দুঃখজনক বিষয় হলো কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের জীবন যাত্রারমান্নোয়নে ও নানাবিধ সমস্যা নিয়ে কাজ করার মত যেমন নেই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তেমনি বাংলাদেশী নেই কোন শক্তিশালী কমিউনিটি। তবে শ্রমিকদের নানা সমস্যা ও অধিকার আদায়ের লক্ষে বাংলাদেশী কমিউনিটি না থাকায় হতাশ প্রবাসী শ্রমিকেরা। যেমন সব সমস্যা দুতাবাস এগিয়ে আসার মত না ছোট ছোট অনেক বিষয়ে অন্যন্যদের দেশের কমিউনিটির নেতারা সমাধান করে যাচ্ছে তেমনি কাতারে প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের খোজঁ খবর নেওয়ার জন্য কমিউনিটির নেতা থাকা দরকার।
কাতারস্হ বাংলাদেশ দূতাবাস শ্রমিকদের নানা সমস্যা দেখলে ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্হা বা সহযোগিতা অনেক সময় করতে পারছেনা।কারন বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে কাতারে তাদের নিয়োগকারী অনেক কোম্পানির চুক্তিপত্র না থাকায় অসহায় প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতে পারছে না দূতাবাস।এতে সাধারন মানুষ দোষ চাপিয়েছ দূতাবাসের উপর।
২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার। তাই দেশটিতে চলছে বিশাল নির্মাণ যজ্ঞ। আর এজন্য আরো কয়েক লক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে কাতরে । এ অবস্থায় প্রবাসী শ্রমিকদের দাবি, ন্যায্য পারিশ্রমিকের পাশাপাশি উন্নত বাসস্থানের ব্যবস্থা যেন হয়।সে জন্য যথেষ্ট আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
এ জাতীয় আরো খবর...