বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত কিশোরের মৃত্যুতে দুটি মামলা
৫ আগস্ট ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিশোর মাহমুদুল হাসান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এর এক মাস পর, তার বাবা মিজানুর রহমান ঢাকার আদালতে ছেলের হত্যার ঘটনায় মামলা করতে যান। কিন্তু আদালত জানায়, এই ঘটনায় আগেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফলে মিজানুরের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
পরে প্রথম আলোর অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়, মাহমুদুল হত্যায় একটি নয়, দুটি মামলা হয়েছে। একটি ডেমরা থানায়, যেখানে ৯৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় বলা হয়েছে, মাহমুদুলকে ডেমরা এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অপর মামলাটি যাত্রাবাড়ী থানায়, যেখানে ৩৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় বলা হয়েছে, মাহমুদুলকে হত্যা করা হয়েছে যাত্রাবাড়ীতে। দুই মামলায়ই দুই থানার পুলিশ ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
একই ঘটনায় দুই থানায় মামলা করা যায় না বলে জানিয়েছেন ফৌজদারি মামলাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী। তিনি বলেন, “কিশোর মাহমুদুল হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার তথ্য আদালতের নজরে আনা উচিত। এটা অস্বাভাবিক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহম্মেদ বলেন, তিনি জানতেন না যে মাহমুদুলের মৃত্যুর ঘটনায় ডেমরা থানায় মামলা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। একই কথা বলেন ডেমরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক মীর।
একটি ঘটনায় দুটি মামলা হওয়ার বিষয়টি জানার পর, মাহমুদুলের বাবা মিজানুর রহমান ছেলের হত্যার বিচার নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন। তিনি রবিউলের মামলায় পক্ষভুক্ত হতে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করেছেন। মিজানুর বলেন, “আমি আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”