মানিক মিয়া (সদর প্রতিনিধিঃ)
গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নে মনিপুর গ্রামের (নামাপাড়া) সুকুমার দেবনাথের সন্তান অজিত দেবনাথ (২২), একই গ্রামের ভাড়াটিয়া (১৯), কে মুসলমান হয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ শারীরিক সম্পর্ক করে। এক পর্যায়ে ভিকটিম অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরলে বিয়ের চাপ দিলে ঘটনা জানাজানি হয়। বিষয়টি স্থানীয় মহিলা মেম্বার শিপনা আক্তার সুমিকে জানালে তিনি ১ লাখ টাকায় রফাদফা করে ভিকটিমদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বাকী টাকা আত্মসাৎ করেন। এতে ভিকটিম তার গর্ভে থাকা সন্তানের স্বীকৃতির বিষয়টি মেম্বারকে জানালেও তিনি কর্ণপাত করেননি। এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা ( নং ১/৯২) দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
অনুসন্ধানে ও ভিকটিম সূত্রে জানা যায়, অজিতের সাথে এক বছর প্রেম করার পর অজিত ভিকটিমকে মুসলিম হয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখায়। ভিকটিমের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে শ্রীপুর পৌর এলাকার ১নং সিএন্ডবির একটি ফ্ল্যাটে প্রায় ৬ মাস ভাড়া থাকেন। ফলে ভিকটিম অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরে এবং বিয়ের চাপ দিলে সে কালক্ষেপন করতে থাকে।
ভিকটিম আরও জানিয়েছেন, ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় ভাওয়াল গড় ইউঃ এর ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার শিপনা আক্তার সুমিকে জানাই। তিনি আমার ‘মা’ কে বলেন, ছেলে যদি পরবর্তীতে তোমার বাসায় আসে তাহলে তাকে আটকিয়ে আমাকে খবর দিবে, আমি বিচার করবো। পরে তিনি ছেলেপক্ষের সাথে কথা বলে আমার ‘মা’ কে আবারও শিখিয়ে দেয়, ছেলে পক্ষের থেকে ২ লাখ টাকা দাবি করার জন্য। তিনি ছেলে পক্ষ থেকে সালিশে এক লাখ টাকা নেয় মীমাংসা করার জন্য।
আমি তখন মেম্বারকে বারবার বলেছি, ‘আমি ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা’। আমি আমার সন্তানের স্বীকৃতি চাই। কিন্তু মেম্বার তখন বলেছে এটা সম্ভব না। গর্ভের সন্তানের বিষয়টা পরে দেখবো। তিনি সঠিক বিচার না করায় আমি তার শাস্তি দাবি করছি এবং আমার সন্তানের স্বীকৃতি চাই।
ভিকটিমের ‘মা’ জানিয়েছেন, ওই সালিশের পরে ছেলের মামা অমল চন্দ্র দেবনাথ আমার হাতে এক লাখ টাকা দেয়, লোকজনের ভীড় কমার পর, পুরো টাকা মেম্বার তার সহকারি জাকিরের মাধ্যমে নিয়ে যায়। এরপর মেম্বার আমার বাড়িতে এসে আমার ও আমার সন্তানের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়, পরে ৫০ হাজার টাকা দেয়। আমি তখন অনেক কান্নাকাটি করে বলি, আমি কিসের টাকা নেব? আমার টাকার প্রয়োজন নেই। আমি আমার মেয়ের গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি চাই। তিনি আমার কথায় কর্ণপাত না করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যায়।
টাকা আত্মসাৎ প্রসঙ্গে ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার শিপনা আক্তার সুমির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
আমি সালিশ করেছিলাম। কিন্তু লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। ভিকটিম অন্তঃসত্ত্বা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার গর্ভে সন্তান আছে এ বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি।
স্থায়ীয় মেম্বার আব্দুল মোতালেব জানিয়েছেন, মহিলা মেম্বার যখন সালিশ করে তখন আমি পিকনিকে সুন্দরবন ছিলাম। আমার সাথে ফোনে কথা হয়েছিল।
ভিকটিমদের সাথে কথা বলেআমি জানতে পারি, ‘মহিলা মেম্বার সালিশের মাধ্যমে ১ লাখ টাকায় মীমাংসা করে ভিকটিমদের ৫০ হাজার টাকা দেয়, বাকী ৫০ হাজার টাকা গেল কোথায়? এটা আমারও প্রশ্ন। এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের শাস্তি হওয়া উচিত। কেননা ধর্ষণ সংক্রান্ত কোনও ঘটনা মেম্বার/চেয়ারম্যানদের মীমাংসা করার কোন এখতিয়ার নেই’।
এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার এসআই মনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ‘এ ব্যাপারে ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে প্রথমে ধর্ষণের অভিযোগ করে। পরে প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগটি আমলে নিয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) ধর্ষণ মামলা নেওয়া হয়েছে। এরপর ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় আসামিকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহঃ বার দুপুরে তাকে চালান করা হয়েছে’। মহিলা মেম্বারের টাকা আত্মসাতের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে যারা জড়িত তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে’।