আইন, বিচার, সংসদ ও নির্বাচনব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের সংস্কারের জন্য ইসলামী জামায়াতে আজ বুধবার দুপুরে গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে ১০ দফা প্রস্তাব তুলেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েব আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, তাদের প্রকৃত সংস্কার প্রস্তাব ৪১ দফা। বর্তমানে সময়ের কারণে তারা ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এগুলো অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। নির্বাচিত সরকার এসে বাকিগুলো দেখবে।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, এই ১০ দফা প্রস্তাব অন্তর্বর্তী সরকার যদি করে ফেলে, তাহলে নির্বাচিত সরকার কী করবে। আমরা নির্বাচিত সরকারকেও পরীক্ষা করতে চাই। যখন আমরা বিরোধী দলে ছিলাম, তখন আমাদের কথা ছিল আলাদা, আর সরকারে গেলে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাই। তাই আমি জানতে চাই, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে কি না।
জামায়াতের প্রস্তাবগুলো হলো:
**আইন ও বিচার:**
* হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগে সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন
* বিচার বিভাগ থেকে দ্বৈত শাসন দূর করা
* বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা
* সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা
* গণমানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন
* সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ ও কালো আইন বাতিল
* বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা
* নিম্ন আদালতের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন
* সব ফৌজদারি মামলার তদন্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন
* দেওয়ানি মামলা ৫ বছরের মধ্যে এবং ফৌজদারি মামলা ৩ বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি
**সংসদবিষয়ক সংস্কার:**
* সংসদের বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনয়ন
* সংসদে বিরোধীদলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন
* সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া
**নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার:**
* জাতীয় সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা (পিআর) চালু
* সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে সন্নিবেশ
* ইভিএম ব্যবস্থা বাতিল
* সরকারি চাকরিজীবীরা অবসরের তিন বছরের মধ্যে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না
* স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন
* রাজনৈতিক দল নিবন্ধন প্রথা বাতিল
* নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন
* জাতীয় সংসদ নির্বাচন একাধিক দিনে অনুষ্ঠিত
* জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের অধীন
**আইনশৃঙ্খলা সংস্কার:**
* পুলিশ আইন পরিবর্তন ও পুলিশের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন
* স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন
* রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশ নিয়োগ, পদোন্নতি ও চাকরিচ্যুতি
* পুলিশ ট্রেনিংয়ে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতা অন্তর্ভুক্তি
* পুলিশে মারণাস্ত্রের ব্যবহার দূর
* রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আইনজীবী ও মহিলাদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের উপস্থিতি
* পুলিশ ট্রাইব্যুনাল গঠন
* পুলিশের সুযোগ-সুবিধা উন্নতকরণ
* পুলিশ আইন সংশোধন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন
**র্যাববিষয়ক সংস্কার:**
* র্যাবের জনসমর্থন ফিরিয়ে আনা
* ১৫ বছরের বেশি সময় র্যাবে থাকা সদস্যদের নিজ বাহিনীতে ফেরানো
* বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ
* র্যাবের কার্যক্রম মনিটরিং সেল গঠন
* র্যাব সদস্যদের আইনবহির্ভূত কাজে জড়ালে সেলের অভিযোগ
**জনপ্রশাসন সংস্কার:**
* নিয়োগে দলীয় অনুগত্যা ও সুপারিশের পরিবর্তে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য
* নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে নিয়োগ সম্পন্ন পর্যন্ত যৌক্তিক সময়
* সরকারি চাকরিতে আবেদন বিনামূল্যে
* চাকরির আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর
* সব ক্ষেত্রে বয়সসীমার বৈষম্য দূর
* চাকরিতে দুর্নীতি প্রতিরোধের ব্যবস্থা
* আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর
* প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি দেওয়া হলে তা বাতিল
**দুর্নীতি সংস্কার:**
* দুর্নীতি দমন কমিশনে সৎ ও দক্ষ লোক নিয়োগ
* রাষ্ট্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা
* দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা
* বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনা
* দুর্নীতি দমন কমিশনের মন্ত্রণালয়ভিত্তিক গঠন
* দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন, জনবল ও পরিধি বৃদ্ধি
* রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন
**সংবিধান সংস্কার:**
* রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভারসাম্য রক্ষা
* এক ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না
**শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্কার:**
*