৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
তিনদিন আগে ফেনীতে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে আগুন দিয় পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার আতঙ্ক না কাটতেই এবার নরসিংদীর রায়পুরায় একই পরিবারের ৩ কন্যা শিশুসহ ৪ জনকে গতরাতে ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে।
অগ্নিদগ্ধরা হলেন, রায়পুরা উপজেলার লোচনপুর গ্রামের সামসুল মিয়ার মেয়ে প্রীতি (১১), সুইটি (১৩), মুক্তা (১৬) এবং তাদের ফুফু খাতুন নেছা (৬৫)। আহতদের প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে আর্ত চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে যায়। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন জানান, আগুন দেওয়ার ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ওদিকে, ফেনীর সোনাগাজীতে দুর্বৃত্তদের আগুনে দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। মঙ্গলবার ঢামেক হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা জানান।
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘মাদ্রাসাছাত্রীর বিষয়ে আমরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানালেন- এ অবস্থায় দীর্ঘ পাঁচঘণ্টার প্লেনযাত্রা তার জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এ জন্য এখন তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো ঠিক হবে না। শারীরিক অবস্থার একটু উন্নতি হলে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে আলীম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফীর গায়ে দুষ্কৃতিকারীরা আগুন দেয়। এ ঘটনায় তিনি মারাত্মক দগ্ধ হন। প্রথমে স্থানীয় ও পরে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমান আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অপরদিকে, নুসরাতকে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ফেনীর কর্মজীবী নারীরা।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ মানববন্ধন হয়। এতে শতাধিক কর্মজীবী নারী অংশ নেন।
সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানান বক্তারা। একইসঙ্গে অবিলম্বে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।