৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
বাংলাদেশের নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে এক নারীকে মারধর ও গণধর্ষণের ঘটনায় ‘মূল ইন্ধনদাতা’ আওয়ামী লীগ নেতা মো. রুহুল আমিনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুবর্ণচরের চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রুহুল আমিনকে গতকাল বুধবার রাতে সদর উপজেলার উত্তর চরওয়াপদা গ্রামের একটি হাঁস-মুরগির খামার থেকে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই রাতে সেনবাগ উপজেলার খাজুরিয়া গ্রাম থেকে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর নাম বেচু মিয়া।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নিযাম উদ্দিন জানান, “মামলার এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও তদন্তকালে রুহুল আমিনের নাম উঠে আসায় তাকে আটক করা হয়েছে।”
রুহুল আমিন সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম-বাগ্যা গ্রামের মৃত খুরশিদ আলমের ছেলে। তিনি সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং চরজুবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।
এর আগে গতকাল (২ জানুয়ারি) কুমিল্লার বরুরা উপজেলার মহেষপুরের একটি ইটভাটা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
ভোটের দিন রাতে সুবর্ণচরের চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়িতে এক নারীকে মারধর ও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে নিহতের স্বামী নয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলো মো. সোহেল (৩৫), হানিফ (৩০), স্বপন (৩৫), চৌধুরী (২৫), বেচু (২৫), বাসু ওরফে কুড়াইল্যা বাসু (৪০), আবুল (৪০), মোশাররফ (৩৫) ও সালাউদ্দিন (৩৫)। এরা সবাই সুবর্ণচরের মধ্যবাইগ্গা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বাদী উল্লেখ করেন, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ শেষে সরকারি দলের সমর্থক মোশারফ, সালাউদ্দিন ও সোহেলসহ ১০-১২ জন তাঁর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় আসামিরা তাঁকে ও তাঁর মেয়েসহ বাড়ির অন্যদের পিটিয়ে আহত করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। পরে তারা তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে এবং পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। পরের দিন সকালে এলাকাবাসী এসে তাঁদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই নারী।
গতকাল পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ওই নারী ও তাঁর স্বামীকে দেখতে যান এবং তাঁর বক্তব্য শোনেন। এ সময় ওই নারী মো. রুহুল আমিনকে মামলার আসামি থেকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ডিআইজি পরে সংবাদিকদের বিষয়টি ‘রাজনীতির বাইরে রেখে’ সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। পুলিশের এ প্রতিনিধি দলটি ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করে।
এদিকে সুবর্ণচরে নারীকে গণধর্ষণের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ ঘটনা তদ্ন্ত করছি। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা এ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত কেউ পার পাবে না।’