৫২ মফস্বল ডেস্ক।।
স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলাধীন বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে জমজমাট ভাবে চলছে বিষাক্ত রঙ মেশানো রঙিন আইসক্রীম এর প্রায় অর্ধ ডর্জন আইস ফ্যাক্টরী। শহরের খাজা মহিউদ্দিন হকার্স মার্কেটের উত্তর ও মধ্য ভাগে পিপাসা-১, পিপাসা-২, হৃদয়, পপুলার, আল-আমিন, আরাম উল্লেখযোগ্য নামের আইস ফ্যাক্টরীগুলোর অবস্থান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোন ফ্যাক্টরীতে সাইন বোর্ড নেই, অধিকাংশের সার্টার অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় ভিতরে কর্মচারীরা মেশিন চালিয়ে কাজ করছে। ফ্যাক্টরী গুলো সম্পূর্ণ অ-স্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে তোলা অবস্থায় ভিতরের পরিবেশ যেমন নোংরা তেমনি নোংরা পাত্রে অপরিশোধিত পানির সাথে কাপড়ের রঙ করা বিষাক্ত লাল, হলুদ, গোলাপী, টিয়া, সাদা, হলুদ বর্ণের রঙিন পানির সাথে চিনি যোগে হিমায়িত বরফ এক দিকে আইসক্রীম হিসেবে আকর্ষণীয় প্যাকেটে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে, বাজারজাত করার জন্য।
একই সাথে গোলাকৃতির আম আপেলের ন্যায় এবং লম্বা ফানেল আকৃতির পলিথিন পাইপ এর ভিতর রঙিন বিষাক্ত রং মেশানো চিনিযুক্ত অপরিশোধিত পানি ভর্তি করে বানানো হচ্ছে আকর্ষণীয় জুস। খোলাবাজারে আইসক্রীম পণ্য হিসেবে স্বীকৃত না হলেও পণ্যের বিশেষ করে খাবার জিনিসের গুণাগুণ মান নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত আকর্ষণীয় প্যাকেজে আইস ও জুসের নামও ফ্যাক্টরীর নাম লিখে বাজারজাত করা হচ্ছে।
যেখানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বি,এস,টি,আই) বা মান নিয়ন্ত্রণ ভবন আইস ফ্যাক্টরী এবং আইসক্রীমকে পণ্য তৈরী ও পণ্য হিসেবে বিক্রয়ের স্বীকৃতি দেয় নাই। সেখানে ব্যবসায়ীক ট্রেড লাইসেন্সে অন্য পণ্যের ব্যবসার কথা উল্লেখ করে ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে চোরাগুপ্তাভাবে চালানো হচ্ছে বিষাক্ত রঙিন এই আইসক্রীম ব্যবসা। একদিকে পণ্য হিসেবে বিক্রির জন্য অযোগ্য, অবৈধ অপর দিকে শিশুদের নিকট আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য বিষাক্ত রং মেশানোর ফলে প্রতিনিয়ত যে মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছে বাচ্ছাদের তাহা শিশু হত্যার সামিল। বিষাক্ত এই রং মেশানো আইসক্রীম একদিকে যেমন শিশুদের দাঁতে পোকা ধরায়, শিশু ডায়রিয়া সহ অরুচি, লিভার সিরোসিস, বদহজম ও গ্যাষ্ট্রিক সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
এহেন পরিস্থিতিতে এই প্রাণঘাতী আইসক্রীম ফ্যাক্টরী গুলো বন্ধে ব্যবস্থা নেই যথাযথ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের। জেলা উপজেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও মানবাধিকতার রক্ষায় উদ্যোগ নেই। পরিচালিত হচ্ছেনা স্থানীয় ভাবে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট। সবার চোখে ফাঁকি দিতে পারলেও মিডিয়ার চোখে ফাঁকি দিতে পারেনা কোন অপরাধ।