৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
বাংলাদেশের পরিবহন খাতে নৈরাজ্য থামছে না। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মুখে সরকার সম্প্রতি একটি আইন পাস করলেও তা কার্যকর করার আগেই মালিক-শ্রমিকদের চাপের মুখে সংশোধনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এদিকে পরিবহন খাতে নৈরাজ্যের অন্যতম কারণ চাঁদাবাজি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের একাংশ।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য লীগ নামের একটি সংগঠন গতকাল রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, গোটা পরিবহন সেক্টর বর্তমানে পরিবহন মালিক সমিতির এক নেতার হাতে জিম্মি। নানা নামে প্রতিদিন এ খাত থেকে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। যার বেশি ভাগই যায় সেই ব্যক্তির পকেটে।
এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এমন অভিযোগ তাদের কাছেও এসেছে। বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে। অপকর্ম যেই করবে, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি যেই করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওদিকে, এক বছরেও সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের রাজনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ইলিয়াস কাঞ্চন রেডিও তেহরানকে বলেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে শক্তি যোগায় বলে রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতায় যাওয়া বা টিকে থাকার জন্য এদের চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে।
এ অবস্থায় ইলিয়াস কাঞ্চন আশংকা প্রকাশ করে বলেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের চাপের মুখে সড়ক পরিবহন আইনের সংশোধন করা হলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশের মানুষের এতদিনের আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।