**বিটিভি: আগে কী দেখাত, এখন কী দেখাচ্ছে?**
একসময় বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ছিল বিটিভি। প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে দর্শকরা বিটিভিতে নানা ধরনের অনুষ্ঠান উপভোগ করত। এসবের মধ্যে ছিল ম্যাগাজিন শো, মুভি অফ দ্য উইক, সাপ্তাহিক নাটক, নতুন কুড়ি, শুভেচ্ছা এবং বিভিন্ন বিদেশি অনুষ্ঠানের অনুবাদ।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিটিভির অনুষ্ঠানের মান কমে গেছে। বর্তমানে চ্যানেলটি প্রধানত বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিটিভি আয়ের নতুন পথ উন্মোচন করতে পারে। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে চ্যানেলটির আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া প্রয়োজন।
**অনুষ্ঠানের মান উন্নত করা**
বিটিভির অনুষ্ঠানের মান উন্নত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উন্নতমানের অনুষ্ঠান দর্শকদের বেশি আকর্ষণ করে, যা বিজ্ঞাপনের আয় বৃদ্ধি করতে পারে। ভারতের দূরদর্শন এই ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হতে পারে। দূরদর্শন ধীরে ধীরে অনুষ্ঠানমালার মান উন্নয়ন করে নতুন বিজ্ঞাপনদাতাদের আকর্ষণ করেছে।
**প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন**
বিটিভির দক্ষ কর্মী বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে। এই কেন্দ্রে টেলিভিশন প্রযোজনায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। এটি বিটিভির জন্য আয়ের একটি নতুন উৎস তৈরি করতে পারে।
**স্টুডিও ভাড়া দেওয়া**
বিটিভির নিজস্ব স্টুডিও এবং প্রযুক্তিগত সরঞ্জামগুলোর মান অনেক উন্নত। এই স্টুডিওগুলো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান, সিনেমা বা ডকুমেন্টারি শুটিংয়ের জন্য ভাড়া দেওয়া যেতে পারে।
**মাস্টার্স প্রোগ্রাম**
বিটিভি তার ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ে একটি মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু করতে পারে। এতে দেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ্য কর্মী বাহিনী তৈরি করতে সাহায্য করবে।
**আর্কাইভের ব্যবহার**
বিটিভির আর্কাইভে অনেক পুরোনো অনুষ্ঠান, সংবাদ এবং ইতিহাসমূলক ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। এই দুষ্প্রাপ্য ফুটেজ নির্ধারিত ফিয়ের বিনিময়ে ব্যবহার করার অনুমতি দিয়ে বিটিভি আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
**পত্রিকা প্রকাশ**
বিটিভি মাসিক ম্যাগাজিন বা একটি পত্রিকা প্রকাশ করতে পারে। এতে বিটিভির অনুষ্ঠানমালা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে লেখা থাকবে।
**ডিজিটাল মাধ্যম**
বর্তমান যুগে ডিজিটাল মাধ্যম আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে উঠেছে। বিটিভি তার গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রচার করতে পারে।
**বিদেশি সম্প্রচার**
বিটিভি বিভিন্ন বাংলাদেশ-সংক্রান্ত ডকুমেন্টারি, সংস্কৃতিভিত্তিক অনুষ্ঠান এবং তথ্যচিত্র তৈরি করে আন্তর্জাতিক টেলিভিশন স্টেশন বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করতে পারে।
**মার্চেনডাইজিং**
বিটিভি বিভিন্ন জনপ্রিয় অনুষ্ঠান বা ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে মার্চেনডাইজিং পণ্য যেমন মগ, টি-শার্ট বিক্রি করতে পারে।
**স্পন্সরশিপ**
বিটিভি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য স্পন্সরশিপ গ্রহণ করতে পারে।
যদি বিটিভি এই পদক্ষেপগুলো নেয়, তবে চ্যানেলটি আবারও দেশের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে নেতৃত্ব দিতে পারে।