**বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান**
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া জরুরি এবং প্রয়োজনে উপদেষ্টা পরিষদের আকারও বাড়ানো যেতে পারে।
তারেক রহমান এই আহ্বান জানান জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে। রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, “বাজারের জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, কিন্তু মানুষের আয় সেই হারে বাড়ছে না। সরকারের উচিত দাম নিয়ন্ত্রণে আরও বাস্তবসম্মত এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।”
বছরের পর বছর ধরে মাফিয়াদের সিন্ডিকেটের কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। তারেক রহমান বলেন, “এটি একটি কঠিন কাজ হতে পারে, কিন্তু একেবারেই অসম্ভব নয়। এটিকে মোকাবেলার জন্য উপদেষ্টা পরিষদের আকার বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।”
তিনি সরকারকে সতর্কও করে দিয়ে বলেন, “ফ্যাসিস্ট এবং মাফিয়া-সমর্থকদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে বসানো হলে কোন উদ্যোগই সফল হবে না। সরকার যদি দেশের ভেতর ও বাইরে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে ব্যর্থ হয়, তবে পলাতক স্বৈরশাসকদের সুবিধাভোগীরা এই পরিস্থিতির সুযোগ নেবে।”
তিনি বলেন, গণহত্যা চালানো সেই মাফিয়া-প্রধান দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। এরপর থেকে জনগণ তাদের বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। জনগণ এখন স্বৈরশাসনের অভিশাপ এবং সব ধরনের বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তি চায়।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরশাসনের অবশিষ্টাংশ দূর করে রাষ্ট্রকে জনগণের পছন্দের পথে ফিরিয়ে আনতে ২.৫ মাস সময় যথেষ্ট না-ও হতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের করণীয় নির্ধারণ ও অগ্রাধিকার চিহ্নিত করার জন্য এই সময় কম নয়।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সময় নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলা হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের বক্তব্যের এই গরমিল জনগণের মনে সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি করছে। জনগণ অন্তর্বর্তী সরকারকে আরও দায়িত্বশীল এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি এমন ভূমিকায় দেখতে চায়।
সংস্কারের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “সংস্কার খুবই জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ। তবে সংস্কার একটি ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি কখনও কখনও সময়সাপেক্ষ হতে পারে। যেকোন সংস্কার প্রক্রিয়ায় জনগণকে সরাসরি অংশীদার না করা হলে শেষ পর্যন্ত সেই সংস্কার কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না।”