ইয়ামিন হোসেন, ভোলা/৫২ মফস্বল ডেস্ক।।
ভোলা শহরের বহুল আলোচিত কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব রক্ষক মোঃ মুসা হত্যাকান্ডের মুল হোতা কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ মহসিন (২৫) কে গ্রেফতার করেছে ভোলা পুলিশ। ১১ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ভোলা কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব রক্ষক মোঃ মুসা (৫৫) কে গত ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনাটি ছিল ভোলার টক অব দ্যা টাউন। সেই থেকেই সকল মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল মহসিন ধরা পড়বে তো? কখন ধরা পড়বে সেই সংবাদটি জানার আগ্রহ ছিল সবার। আলোচিত ওই ঘটনার মুল ঘাতক মোঃ মহসিনকে অবশেষে ১৬ দিন পর আটক করতে সক্ষম হয় ভোলা থানা পুলিশ।
হত্যাকান্ড ঘটিয়ে তারপর থেকে পলাতক ছিল মহসিন। ওই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য হন্নে হয়ে খুজতে থাকে এবং তার গতিবিধির উপর নজর রাখে পুলিশ। পলাতক থাকার পর অবশেষে গোপনে সোমবার বাড়ীতে আসে মহসিন। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না। ধরা তাকে পড়তেই হলো।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর খায়রুল কবিরের নেতৃত্বে সঙ্গিয় ফোর্স নিয়ে রাতভর তার বাড়ীতে প্রহরায় থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে তার নিজ বাড়ীতে অভিযান চালায়। অবশেষে সকাল ৯টার দিকে মহসিনকে আলীনগরের ২নং ওয়ার্ডের ছিফলী গ্রামের হাওলাদার বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মহসিন ওই এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা হাওলাদারের ছেলে এবং কাঁচা বাজারের একজন ব্যবসায়ী। তাকে গ্রেফতার করে ভোলা থানায় নিয়ে আসে। অবশেষে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন ভোলার পুলিশ সুপার মোকতার হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভোলার আলোচিত মুসা হত্যাকান্ডের মুল ঘাতক মহসিনকে মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
কেন মুসাকে হত্যা করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে মহসিন বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত জুয়া খেলার সাথে জড়িত ছিলাম। হাতে কোন টাকা-পয়সা ছিল না। এ সময় মাথায় বুদ্ধি এল যে আমাদের কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব রক্ষককে যদি হত্যা করা হয় তাহলে অনেক টাকা পাওয়া যাবে। তাকে হত্যার জন্য ১৫ দিন আগ থেকেই পরিকল্পনা করতে থাকি কিভাবে তাকে হত্যা করা যায়। অবশেষে আসে সেই মহেন্দ্র ক্ষন সময়। ব্যাংক বন্ধ থাকায় মুসার কাছে গত ৩/৪ দিনের টাকা জমা আছে ভেবে তাকে হত্যার জন্য বাজার থেকে ৬০ টাকা দিয়ে একটি ছুরি কিনি। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৬ মার্চ রাতে পিছন থেকে তাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করি। কিন্তু হত্যা করে ১২ হাজার টাকা ছাড়া আর কিছুই পাইনি। ওই টাকা নিয়েই পালিয়ে যাই।
মুসাকে হত্যা করে প্রথমে শ^শুর বাড়ী, তারপর খালা বাড়ীতে যাই। কিন্তু কোথাও স্থান পাইনি। সেখানে স্থান না পাওয়ায় ওই রাতেই লঞ্চযোগে প্রথমে বরিশাল, তারপর ঢাকা-রংপুর এবং চট্টগ্রাম হয়ে পুনরায় গত সোমবার বাড়ীতে আসি। এ হত্যার সাথে আর কেউ জড়িত নাই। আমি একাই এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছি। এদিকে মহসিন গ্রেফতার হওয়ার সংবাদে নিহত মুসার পরিবারে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসে।