৫২ আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
মিয়ানমারে অভ্যন্তরে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সাথে সেনাবাহিনীর তুমুলযুদ্ধ চলছে। সীমান্তরেখা বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সূত্রে এমন পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মতে ইতোমধ্যে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে অনেক এলাকা। সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের কাউয়ার পাড়া, ফকিরাপাড়া, বলিবাজার, ঢেঁকিবনিয়া এলাকার বেশি ভাগ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। এসব এলাকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে।
বিদ্রোহীরা ক্রমাগত শক্তি বাড়াচ্ছে। ফলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীও আক্রমণ বাড়াচ্ছে। গেল ১ মাসের বেশি সময় ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল, গোলাগুলিসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এ পারের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশফাঁড়ি এলাকার ২৪ হাজার মানুষ মারাত্মক আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব গোলাগুলি ও মর্টার শেলের বিকট শব্দ শোনা যায়।
৫ নম্বর পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত মিয়ানমারের অভ্যন্তরে একটানা গোলাগুলি ও মর্টারের গোলার বিকট শব্দ হচ্ছে। এসব গোলাগুলি ও মর্টারের গোলার শব্দে কেঁপে উঠছে উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়ার সীমান্তবর্তী বসতিগুলো। এর ফলে সীমান্তের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছে। সকালে ৪৫ মিনিট গোলাগুলির পর আর কোনো শব্দ পাইনি। গোলাগুলি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, সীমান্তে শূন্যরেখার ৩০০ থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে তালিকা তৈরি করার নির্দেশনা আসে। এরই মধ্যে জরিপ করে ঝুঁকিতে থাকা ১০০ পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। যদি সীমান্তে কোনো ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে ঝুঁকিতে থাকা এসব পরিবারের লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পালংখালী ইউনিয়নের ধামনখালী, পূর্ব জমিদার পাড়া ও পূর্ব বালুখালী সীমান্ত এলাকায় শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের তালিকা প্রশাসনের
কাছে দেয়া হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে মিয়ানমারের ছোড়া কয়েকটি মর্টার শেল এসে পড়ে বাংলাদেশের কোনারপাড়ায় ও শূন্যরেখার আশ্রয় শিবিরে। কোনারপাড়ার মর্টার শেলটি বিস্ফোরিত না হলেও শূন্যরেখায় পড়া মর্টার শেলটি বিস্ফোরিত হয়ে মারা যায় এক রোহিঙ্গা। এ সময় আহত হয় আরো ৫ জন। পরিকল্পিতভাবে মিয়ানমারের বাহিনী মর্টার শেল নিক্ষেপ করছে বলে দাবি রোহিঙ্গাদের।
এদিকে ২০১৭ সালে ২৫ আগস্টের পর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল সবচেয়ে বেশি ছিল এই ইউনিয়ন দিয়ে। ওই সময় ৯ লাখের বেশি রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিলেও ব্যতিক্রম ছিলেন ৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। যারা ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রুর কোনারপাড়ার বিপরীতে শূন্যরেখায় কাঁটাতারের বেড়া নিকটেই অবস্থান নিয়ে ছিলেন। গত পাঁচ বছর ধরে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা এই শূন্য রেখায় অবস্থান করে মিয়ানমার সীমান্তের সকল পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখে আসছেন।
উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পে আশ্রয়রত রোহিঙ্গার ত্রাণ সহ সকল সহায়তার দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের শরাণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়। কিন্তু শূন্য রেখার রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি)। গত মাস ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যে সংঘাতময় পরিস্থিতি চলছে তার সবচেয়ে কাছের সাক্ষী শূন্য রেখার এসব রোহিঙ্গারা। এই শূন্য রেখায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নেতা দিল মোহাম্মদ।