গতকাল, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কথাগুলি বলছিলেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের বয়স্ক রিলু ফকির (৭০)। সম্প্রতি, বিষ্ণুপুর এলাকায় নবগঙ্গার ভাঙনে রিলু ফকিরের বাড়িঘর ও জায়গাজমি বিলীন হয়ে গেছে।
রিলু ফকিরের ছেলে লিমন ফকির বলেন, “যতটুকু জায়গাজমি ছিল, সবই এবার নদী নিয়ে গেছে। অন্যান্যরা মালপত্র সরানোর সময় পেয়েছিল, আমরা সেটাও পাইনি। মালপত্র বের করার জন্যও আধ ঘণ্টা সময় পাইনি। সব নদীতে ভেসে গেছে।”
গতকাল, মঙ্গলবার দুপুরে বিষ্ণুপুর এলাকায় গেলে দেখা গেল, নবগঙ্গার পানি বেড়ে তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ঢেউ আছড়ে পড়ে ভেঙে দিচ্ছে নদীর পাড়। গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে এই ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে এই এলাকার রিলু ফকির, জনি শেখ, মাহাবুর ফকির, মাকসুদ ফকির, সেলিনা আহমেদ, রুকি বেগম, জহুর সরদার, শহিদুল্লা মোল্লা, মাহদাদ শেখ, প্রমুখ অন্তত ১৫টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। কেউ কেউ ঘরে থাকা জিনিসপত্র কিছু সরিয়ে নিতে পেরেছেন, আবার কেউ পারেননি।
সেলিনা আহমেদ নামে এক নারী বলেন, “ঘরের জিনিস বের করতে করতে আমাদের ঘরও নদীতে চলে গেল। কিছু বের করেছি, আর কিছু নদীতে চলে গেছে। আমরা নিজেরা দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছি। এখন আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।”
রুকি বেগম বলেন, “নদীতে সব তলিয়ে যাচ্ছে দেখে, চুল্লিতে থাকা ভাতের হাঁড়ি রেখে দৌড় দিয়েছি। সব নদীতে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে পাশের বাড়িতে রয়েছি। কেউ চারটা দিলে খাচ্ছি।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার কথা বলার পর জানা গেল যে, বিষ্ণুপুর এলাকায় ভাঙন-আতঙ্কে শতাধিক পরিবার রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তাদের বাড়িঘর, কবরস্থান, মসজিদ, পাকা সড়ক, প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলীন হয়ে যাবে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বাঁধ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।
নদীপাড়ের বাসিন্দা শাহাদাত সরদার বলেন, “এর আগে কখনো ভাঙনের মুখোমুখি হতে হয়নি। এখন অবস্থা এমন যে, যেকোনো সময় নদীতে চলে যেতে পারে সব। আতঙ্কে দিন কাটছে। সরকার যদি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ করে দেয়, তাহলে আমরা বাঁচব, সম্পদ বাঁচবে।”
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের যশোর অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. সাবিবুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে আমরা স্থানে গিয়েছি। কয়েকটি বাড়িঘর ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ভাঙন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে নদীপাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলিতে স্থায়ীভাবে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের প্রকল্প নেওয়া হবে।”