৫২, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গাজীপুরের শ্রীপুর থানার অন্তর্গত রাজেন্দ্রপুর নোয়াগাঁও গ্রামে রিনা বেগমের বাড়িতে লোকজনের অনুপস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র চুররির অভিযোগ পাওয়া যায়। জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে চলমান লকডাউনের সময় রিনা বেগমের পরিবারের সকলে ২ মাস ঢাকাতে অবস্থান করে। এ সুযোগে বাড়ি দীর্ঘ সময় ফাঁকা থাকার সুবাদে বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র চুরি হয়ে যায়। ঢাকা থেকে গত ৭/৬/২০২০ তারিখে বিদ্যুৎ বিল দেয়ার জন্য এসে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারে। এলাকার লোকজনের সহযোগিতায় খোঁজ করাকালীন সময়ে ৮/৬/২০২০ নোয়াগাঁও গ্রামের সুমির বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া ১টি স্টিলের খাট, ১টি পারটেক্স ওয়ারড্রপ, ১টি পারটেক্স খাট, ১টি শিলিং ফ্যান, ১৫টি সিলভারের ছোট বড় পাতিল, ৫টি সিলভারের বল, ১৬টি বড় ছোট প্লেট, ৮টি কাঁথা, ৭টি বালিশের কাভার (যাহার আনুমানিক মূল্য ৫০,০০০ টাকা) দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে শ্রীপুর থানার উপ- পরিদর্শক এসআই অশোক কুমার সরকার সুমির বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে এবং জব্দ তালিকা তৈরি করে। সুমি আক্তার চুরি যাওয়া মালামাল একই এলাকার মনির মোল্লার ছেলে সিহাবের কাছ থেকে ক্রয় করেন বলে জানান এবং সিহাবকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেন। পুলিশ সুমি আক্তারের বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করলেও জব্দ তালিকায় ১নং আসামী সিহাবের বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার দেখানো হয়েছে।
মামলার তদন্তে নয় ছয় করে মিথ্যা তথ্য দেয়ায় সিহাবের মা শিউলী বেগম গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপারের নিকট সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেন। সিহাবের বাবা মনির মোল্লা জানান, “সিহাবকে ৮/৬/২০২০ ইং দুপুরে ফোন করে ডাকে সুমি আক্তার। সিহাবকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। এমনকি চুরি যাওয়া মালামাল সুমির বাড়ি থেকে উদ্ধার করলেও জব্দ তালিকায় আমার বাড়ির কথাটি উল্লেখ করেছেন। পুলিশ প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে আমার ছেলেকে চুরির মামলায় গ্রেফতার করেছে।” সিহাবের মা শিউলী বেগম জানান, “সুমি আমার ছেলেকে ফোনে ডেকে নিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। নিজের অপরাধ গোপন করতে পুলিশকে দিয়ে জব্দ তালিকায় সুমির বাড়ি না লিখে আমাদের বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার দেখিয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের জন্য পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছি।” ঘটনার দিন স্থানীয় সাংবাদিকসহ উপস্থিত গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে কার বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার হয়েছে জানতে চাইলে তারা সকলেই জানান, সুমির বাড়ি থেকে মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ কি করে জন্য জব্দ তালিকায় মিথ্যা লিখেছেন তা তাদের জানা নেই। এবিষয়ে জানতে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক এসআই অশোক কুমার সরকারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সুমি সরকারি কাজে সহযোগিতা করেছেন এবং সিহাবকে ধরিয়ে দিয়েছেন তাই তার বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার হলেও জব্দ তালিকায় সিহাবের বাড়ি থেকে উল্লেখ করা হয়। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক জনিত সমস্যার কারণে একাধিক বার যোগাযোগ করেও আর কথা বলা সম্ভব হয়নি। এব্যাপারে জানতে মামলার বাদী রিনা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও জব্দ তালিকার সাক্ষী রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার মোহাম্মদ আলী শেখ জানান, জব্দ তালিকা ফাঁকা রেখে পরে পূরণ করার কথা বলে স্বাক্ষর নিয়েছেন এসআই অশোক কুমার সরকার। কিভাবে জব্দ তালিকায় সুমির বাড়ি না লিখে সিহাবের বাড়ি লিখেছেন সে বিষয়ে তার জানা নেই। তিনি বলেন, আমি জানি চুরি যাওয়া মালামাল সুমির বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেটা আমি যেকোনো জায়গায় যেকোনো পরিস্থিতিতে বলতে পারবো।
তদন্তে নয় ছয় করে (শ্রীপুর থানার মামলা নং ২২/৩৯১) মূল ঘটনা ধামাচাপা দেয়ায়, এলাকার সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত করে মূল ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।