৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
সদ্য বিদায়ী ২০১৯ সালে আগের বছরের তুলনায় ঢাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ এবং পণ্য ও সেবা খাতে এ বৃদ্ধির পরিমান ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।
দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)কর্তৃক প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া, জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবার মধ্য থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী ও ১৪টি সেবার তথ্য পর্যালোচনা করে ক্যাব এই হিসাব করেছে। এই হিসাবের মধ্যে শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রকৃত যাতায়াত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি।
এ প্রসঙ্গে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বিষয়টি ব্যখ্যা করে গণমাধ্যমকে বলেন, পণ্য ও সেবার মুল্য বৃদ্ধিতে দরিদ্র মানুষদের কষ্টটা বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং জীবন যাত্রার ব্যয় কম রাখার জন্য সরকারের সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে অনুকূলে রাখতে হবে। তা না হলে মানুষ কেবল নিজে নিজে চেষ্টা করেও জীবন মান ( স্টান্ডার্ড অব লিভিং) ধরে রাখতে সক্ষম হবে না।
এ ভোক্তা সংগঠনটি জানিয়েছে, গতবছর চালের বাজার ছিল সহনীয় এবং নিম্নমুখী। বছরের শেষে চাল, আটা, ডিম, মসলা,ভোজ্যতেল, শাকসবজিসহ কিছু পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
গতবছর মূল্য বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে থেকে রেকর্ড গড়েছে পেঁয়াজ। দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে আরও বেশি- ৭১ দশমিক ১১ শতাংশ।
ক্যাবের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গত বছর নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বাড়িভাড়া বেড়েছে গড়ে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। বস্তির ঘরভাড়া ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ ও মেসের ভাড়া বেড়েছে ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। বাসাবাড়িতে বার্নার গ্যাসের চুলার ব্যয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এছাড়া, হাইওয়ে সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি তেলের মূল্য কমলেও যাত্রী ও পরিবহন ব্যয় কমেনি।
অনুরূপভাবে, ২০১৯ সালে গড়ে শাকসবজির দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। তরল দুধে বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া দেশি থান কাপড়, বিদেশি কাপড়, খেজুর গুড়, নারিকেল তেল, ঘরভাড়া প্রভৃতি জিনিসের দামও বেড়েছে। তবে, লবণ, চিনি, সাবান, পান সুপারি ইত্যাদি পণ্যের দাম কমেছে। এদিকে, বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।
সোমবার সকালে গাজীপুরের জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা) আয়োজিত ‘কৃষক-উদ্যোগ: বাণিজ্যিক কৃষির উদীয়মান চালক’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, ‘গত বছর পেঁয়াজ ওঠানোর সময় অস্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকেরা ঠিকমতো পেঁয়াজ ওঠাতে পারেননি। পেঁয়াজ পচনশীল দ্রব্য। ভারত থেকে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করার কথা, তা আমরা করতে পারিনি। ভারতও পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। তাই পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় কৃষকেরা এ মৌসুমে পাতাসহ পেঁয়াজ বিক্রি করায় উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই পেঁয়াজের দাম কমছে না।’