৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। ঈদযাত্রার প্রথম দিনে সড়ক পথে বড় ধরনের কোন সমস্যা না হলেও চরম ভোগান্তিতে পড়েন রেলপথের যাত্রীরা। শিডিউল মেনে কমলাপুর রেলস্টেশন ছাড়তে পারেনি বেশ কয়েকটি ট্রেন। নৌপথে যাত্রাও ছিল অনেকটা স্বাভাবিক।
আজ (শুক্রবার) ছিল রেলপথের ঈদযাত্রার প্রথম দিন। আজ সারাদিনে ৫২টি ট্রেনের ঢাকা ছাড়ার শিডিউল রয়েছে। তাই বিস্তর দুর্ভোগ কাটিয়ে আগাম টিকিট কেনা যাত্রীরা নির্ধারিত সময়েই উপস্থিত হন কমলাপুর রেলস্টেশনে। কিন্তু সকাল দশটা পর্যন্ত ছেড়ে যাওয়া ১৮টি ট্রেনের মধ্যে ৪টিই সময় মেনে ছাড়তে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে রংপুর এক্সপ্রেস ছেড়েছে প্রায় সাত ঘণ্টা দেরিতে।
প্রথমদিনেই কয়েকটি ট্রেন শিডিউল অনুযায়ী চলতে না পারায় যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। কমলাপুর রেলস্টেশনে সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে, যাত্রী দুর্ভোগের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি।
রেলমন্ত্রী বলেন, শুক্রবার আন্তঃনগর ও লোকাল মিলে ৫২টি ট্রেন কমলাপুর ছেড়ে যাবে। সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৮টির মধ্যে ১৪টি ট্রেনই ঠিকমতো ছেড়ে গেছে। সুন্দরবন, ধুমকেতু ও রংপুর এক্সপ্রেসসহ চারটি ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়েছে।

রেলপথে সমস্যায় পড়লেও সড়কপথে ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকা ছেড়েছেন যাত্রীরা। মহাসড়কে যানজটসহ বড় ধরনের কোনো সমস্যা না হওয়ায় মোটামুটি সময় মেনেই কাউন্টার ছেড়েছে বিভিন্ন পরিবহণের বাস। তবে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের শ্রীপুর থেকে বাইপাইল পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে কিছুটা যানজট সৃষ্টি হয়। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে এ অবস্থা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এবারের ঈদে সড়কে যানজটের তেমন আশংকা নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এবারের মতো ভালো রাস্তা, এর আগে কখনো ছিল না। ঈদযাত্রা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত যানজটের কোনো বিষয় আসেনি।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সড়ক পরিবহণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজির বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। তারা অবগত আছেন এবং কোন চালক যেন নিয়ম বহির্ভুতভাবে গাড়ি না চালায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, এমন উন্নয়ন কাজ বন্ধে নির্দেশনা দেয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।
নৌপথেও ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে। আগাম টিকিট বিক্রি হওয়ায় নৌযাত্রা ছিল অনেকটা স্বাভাবিক। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই না করা হলেও নির্ধারিত সময়ে যাত্রা শুরু করেনি কোন লঞ্চই। এছাড়া রাজধানীর সদরঘাটে শ্রমিকদের হাতে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।