৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
দেশে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। শ্যামলী, হানিফ, সোহাগ, এসআর, নাবিল, ঈগল, এনা, দেশ ট্রাভেলসসহ প্রায় পঁচিশটি বড় পরিবহণ কোম্পানি বাসের আগাম টিকিট বিক্রি করছে। যা আরও দু’দিন অব্যাহত থাকবে।
আসন ফাঁকা থাকলে পরবর্তী সময়েও চলবে টিকিট বিক্রি। নির্দিষ্ট কাউন্টারের পাশাপাশি অনলাইনেও টিকিট বিক্রি করছে কোন কোন কোম্পানি। মহাসড়কে কোন সমস্যা না হলে আসন্ন ঈদে ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা ঘরে ফিরতে পারবেন বলে জানান কাউন্টার ম্যানেজাররা।
অগ্রিম টিকেট কিনতে শুক্রবার ভোর থেকে গাবতলীসহ রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছে মানুষ। যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি চাহিদা ৩০ মে ও ৩ জুনের টিকেট। গাবতলী ও কল্যাণপুরের কাউন্টারগুলো ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
অগ্রিম টিকিট কিনতে সেহরি’র পর কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর টিকিট হাতে পেয়ে খুশি তারা। তবে যারা দেরিতে এসেছেন তাদের কেউ কেউ কাঙ্ক্ষিত দিনের টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। কোন কোন পরিবহণ টিকিটের দাম বেশি রাখছে, এমন অভিযোগও করেন যাত্রীরা।
বেশি দাম রাখার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন কাউন্টার ম্যানেজাররা। তারা বলছেন, কয়েক বছরের নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে টিকিট। অন্য সময় তারা কিছুটা ডিসকাউন্ট দিলেও যাত্রী একমুখী হওয়ায় এখন কম রাখতে পারছেন না তারা।
৩০ মে ও ৩ জুনের টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় কোন কোন পরিবহণের টিকিট আগেভাগেই শেষ হয়ে যায় বলে দাবি করেছেন কাউন্টার ম্যানেজাররা। তবে, অন্যান্য দিনের টিকিটের কোন সংকট নেই বলে জানান তারা। যাত্রীর চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন কাউন্টারকে এলাকাভিত্তিক ভাগ করে টিকিট বিক্রি করছেন তারা। অনলাইনেও টিকিট বিক্রি করছে কয়েকটি কোম্পানি। এতে এসব বাসের কাউন্টারে নেই যাত্রীদের ভীড়। অনলাইনে সব টিকিট বিক্রি না হলে কাউন্টার থেকে তা বিক্রি করা হবে বলেই জানিয়েছেন কোম্পানীর কর্মকর্তারা।
হানিফ পরিবহণের মহাব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন জানান, টিকিটের কোন সংকট নাই। থাকা সাপেক্ষে যাত্রীরা চাহিদামতো টিকিট কিনতে পারছেন। আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং মহাসড়কে কোন ধরনের সমস্যা না হলে যাত্রীরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন। শিডিউল মেনে বাস চলতে পারলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ট্রিপের ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।
সরকারি ছুটির হিসাব মিলিয়ে ৩০ মে ঢাকা ছাড়তে শুরু করবে মানুষ। এবার ছুটি অনেক লম্বা হয় অনেকেই সুবিধামতো টিকেট নিতে পারছেন। সে হিসেব মাথায় রেখে শিডিউল সাজিয়েছে পরিবহণ কোম্পানীগুলো। গত ৯ মে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত বাস কোম্পানিগুলোর মালিকদের এক বৈঠকে আগাম টিকেট বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়।