৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
বাংলার সোনালী আঁশ বলে খ্যাত পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানির জন্য উদ্দীপক–সুবিধা প্রদান করার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাছাড়া পাটশিল্পকে টেকসই ও লাভজনক করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
‘জাতীয় পাট দিবস-২০১৯’ পালন উপলক্ষে আজ (বুধবার) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দেন।
এবারের পাট দিবসের স্লোগান হচ্ছে- ‘সোনালী আঁশের সোনালী দেশ, জাতির পিতার বাংলাদেশ’।

এর আগে গতকাল জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী জানিয়েছেন, দেশে মোট ৩১৪টি পাটকলের মধ্যে এখনো ৬৩টি পাটকল বন্ধ রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত অতিরিক্ত গেজেট মোতাবেক দেশে বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি পাটকলের সংখ্যা ২৭টি। সম্প্রতি আরো ৬টি পাটকল পুনঃঅধিগ্রহণ করায় মোট জুটমিলের সংখ্যা হয়েছে ৩৩টি। যার মধ্যে ৭টি মিল বন্ধ রয়েছে। আবার বেসরকারি পাটকলের সংখ্যা ২৮১টি যার মধ্যে ৫৬টি পাটকল বন্ধ রয়েছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে গাজী গোলাম দস্তগীর জানান, গত অর্থবছরে দেশে ৬ লাখ ১৮ হাজার ৬৩২ হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছে। এ দেশে থেকে পাকিস্তান, ভারত, চীন, নেপাল, আইভরিকোস্ট, জিবুতি, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল, এলসালভেদর, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, তিউনিশিয়া এবং জার্মানিতে পাট রফতানি করা হয়েছে।

পাটমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, ভারত সরকার বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর এন্টি ড্যাম্পিং ডিউটি আরোপ করায় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আমাদের পাটের বাজারে কিছুটা ঋণাত্মক প্রভাব পড়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে পাট মন্ত্রী জানান, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাট দিয়ে তৈরি ‘সোনালী ব্যাগ’-এর প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে পাটকল করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন ১ লাখ সোনালী ব্যাগ তৈরির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তাছাড়া, নতুন নতুন পাটজাতদ্রব্য উদ্ভাবনের লক্ষ্যে নানা ধরনের গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। যেমন পাট থেকে ভিসকস, পাট পাতা থেকে পানীয়, পাট থেকে পলিথিন ব্যাগের বিকল্প সোনালী ব্যাগ, পাটকাঠি থেকে জ্বালানী কয়লা এবং জুট কম্পোজিট গার্মেন্টস-ডেনিম ইত্যাদি বিষয়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলছে।

পরিবেশবান্ধব কৃষিপণ্য পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে সরকারের প্রেরণা প্রদানে সরকারের উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়ে ‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন বা পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান রেডিও তেহরানকে বলেন, পাটের চায় বৃদ্ধিতে যেমন জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় তেমনি পাটের ব্যবহার দেশের ও বিশ্বের পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. মোবারক হোসেন পাট থেকে পলিথিনের বিকল্প রাসায়নিক বস্তু আবিষ্কার করেছেন। পলিথিন সদৃশ এ রাসায়নিক সহজে পচনশীল এবং পরিবেশ বান্ধব। আন্তর্জাকিত পরিসরে পরিবেশ বান্ধব দ্রব্য ব্যবহার করার আগ্রহ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, পাট থেকে বাংলাদেশের প্রচুর অর্থনৈতিক আয়ের সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করেন, দেশের কৃষি আর্থনীতিবিদরা।
আজ জাতীয় পাট দিবসের আনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘পাট এমন একটি পণ্য, যার কিছুই ফেলনা নয়। অতএব কেন এ খাতে লোকসান হবে? আমি কোনো লোকসানের কথা শুনতে চাই না। বরং পাটশিল্প কীভাবে লাভজনক হতে পারে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।’