মমিনুল ইসলাম বাবু, ৫২ কুড়িগ্রাম থেকে।।
আর পারি না বাহে ক্যামনে সংসার চলামু। দু’বেলা দু’মুটো ভাত খামো তারে জন্যে সারাদিন বসি থাকোং কাং কোন বেলা লোহার জিনিষ বানায় এমটাই অশ্রুসিক্ত ভাবে বলেছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর কামার শিল্প (কামার) সোলায়মান। যারা দীর্ঘদিন থেকে কামার শিল্পে কাজ করেছেন তারাই চল্লিশ পঞ্চাশ বছর যাবৎ ধরে রেখেছেন এই শিল্প। কোরবানী ঈদে তাদের দাপট বাড়লেও সারা বছর থাকেন অনেকটা অবহেলিত। আগুন লোহা আর হাতুড়ির পিটুনিতে তৈরী দা, খুরপি, বটি, কুড়াল, হাতুড়ি, নিড়ানী, কাস্তে, ছুরি, খন্তা সারা বছর তৈরি করে থাকেন। কারখানার তৈরি এসব পণ্য সরবরাহ থাকায় তারা আগের চেয়ে অনেক কম বানাতে পারেন। আগুন লোহা আর হাতুড়ির পিটুনির টুক-টাক শব্দের মত ধুঁেক ধুঁেক চলে তাদেও সংসারের চাকা। উপজেলার বালারহাট বাজারের কামার সোলায়মান (৭২) জানান, তার শরীর আগের মত চলে না। শরীর না চললেও পেশাও পাল্টাতে পারেন না, তাই বাধ্য হয়ে কাজ করছেন তিনি। লোহার দাম বাড়ায় পণ্যের দামও বেড়েছে। তিনি জানান দিনে ৪শত থেকে ৫শত টাকা আয় হয়। উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়ের পশ্চিম ধনিরামের বাঘখাওয়ার চর গ্রামের মৃত আমজাদ মুনসীর ছেলে কাসেম আলী ৪০ বছর ধরে কামারশিল্পে কাজ করছেন। হাতুড়ি পিটিয়ে জীবন চলে তার। সারাদিন হাতুড়ি পিটিয়ে আয় হয় ৩শত থেকে ৫শত টাকা। কাসেম আলী মানভেদে নতুন দা ২শত থেকে ৩শত টাকায়, ছুরি ১শত থেকে ২শত টাকায় এবং বটি ৩শত থেকে ৬শত টাকায় বিক্রি হয়। কামারদের হাতে তৈরির পণ্য মজবুত ও টেকসই হয়। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় বাজারে চাহিদা অনেক কম। কারখানার তৈরি পণ্য বেশি মজবুত না হলেও দেখতে সুন্দর হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে চাহিদা অনেক বেশি। সংসারে তাদের বাড়ী ভিটা ছাড়া তাদের আর কোন আবাদী জমি-জমা নাই। হাতুড়ি পিটিয়ে সংসার চলে সোলায়মানদের।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী নাঙডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান ও বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা হল তারা জানান, আমরা যতটুকু পারি ইলিপ-স্লিপ দিয়ে সহযোগিতা করে থাকি। সরকারী ভাবে কোন প্রকারের তাদের জন্য সুযোগ সুবিধা না থাকায় তারা কষ্টে সংসার চালায়।