৫২ আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সিনিয়র কংগ্রেস নেতা ড. মনমোহন সিং। তিনি বুধবার বিজেপিশাসিত মধ্য প্রদেশে ওই অভিযোগ করেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পনের লাখ টাকা করে দেয়নি। ২০১৪ সালে মোদি প্রত্যেক বছরে দুই কোটি কর্মসংস্থানের কথা বলেছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি সরকার। মধ্য প্রদেশেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে বিজেপি সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
ড. মনমোহন সিং বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার সিবিআই-সহ দেশের সমস্ত স্বশাসিত সংস্থাগুলোতে হস্তক্ষেপ করছে। নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকার।’
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করে ড. সিং বলেন, ‘মোদি সরকার দুর্নীতিকে উৎসাহিত করছে। আমরা রাফায়েল যুদ্ধবিমান চুক্তি নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কিছুই হয়নি। এ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করছেন না। তিনি যেভাবে কথা বলছেন তা শোভনীয় নয়। বিশেষ করে যখন তিনি কংগ্রেসশাসিত রাজ্যে যান সেসব জায়গায় অনেক কথা বলেন যা ঠিক নয়, তাঁর পদের মর্যাদা রাখা উচিত।’
‘মোদি কোনও প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি’
এ বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতা হাইকোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী সরদার আমজাদ আলী আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘উনি (মনমোহন সিং) যে অভিযোগগুলো করেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত। তার কারণ হচ্ছে, ভারতের মানুষের কাছে উনি (নরেন্দ্র মোদি) নির্বাচনের আগে ওই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। আজকে প্রায় পাঁচটা বছর হতে চলল কিন্তু কোনও প্রতিশ্রুতি তিনি পূরণ করেননি। অন্যদিকে, যে প্রতিশ্রুতিগুলো উনি দিয়েছিলেন, ঠিক তার বিপরীতধর্মী কাজগুলো উনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) করেছেন। যেমন ব্যাঙ্কের ক্ষমতার উপরে হস্তক্ষেপ করছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সঞ্চিত যে টাকা তা সরকারের কাছে নিয়ে নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। অথচ ব্যাঙ্কের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে যেসব ব্যক্তি আছেন সেইসব ঋণ খেলাপি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উনি কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ব্যাঙ্কের ভাঁড়ার আজ সম্পূর্ণ শূন্য হতে চলেছে। দ্বিতীয় হচ্ছে, দেশে বেকারের সংখ্যা আরও বেশি বেড়ে গেছে। উনি যে নোট বাতিল করেছিলেন, তারফলে দেশে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। তারা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাচ্ছে না, তার কারণ হচ্ছে ব্যাঙ্কের কাছ থেকে বৃহৎশিল্প যারা ঋণ নিয়েছিল তারা পরিশোধ না করায় ব্যাঙ্ক তাদেরকে ঋণ দিতে পারছে না। এরফলে মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প বন্ধ হয়ে সেখানে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে গেছেন। সুতরাং, মানুষের কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি সেটাতেও উনি ফেল করেছেন। আর, রাফায়েল বিমান ক্রয় সম্পর্কে দুর্নীতির কথা হলে সংসদে সাধারণত যৌথ সংসদীয় কমিটির মধ্য দিয়ে তার সত্যতা প্রমাণের দাবি ওঠে। কংগ্রেসের আমলে এরকম দাবি উঠেছিল, যখন বোফর্স কামান সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছিল। তখন কংগ্রেস সরকার তা মেনে নিয়েছিল। কিন্তু ইনি সেটা মেনে নিতে চাচ্ছেন না। রাফায়েল বিমানের কত দাম সুপ্রিম কোর্ট চাইলেও তাও দিতে ওঁরা অস্বীকার করছেন! রাফায়েল সম্পর্কে কোনও তথ্যই ভারতের মানুষের কাছে উনি উপস্থাপিত করছেন না।’ সুতরাং, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং যে অভিযোগগুলো করছেন তা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি বলেও আইনজীবী সরদার আমজাদ আলী মন্তব্য করেন।