চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র হিসেবে বিএনপির শাহাদাত হোসেনের নিয়োগ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) রাতে এই প্রজ্ঞাপন জারির পর বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেনের শপথ নেওয়া এবং দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের সব নির্বাচিত মেয়র এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের অপসারণ করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। মেয়রদের পরিবর্তে সরকারি আমলাদের সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
একটি সাড়ে তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে জয়ী ঘোষণা করে ১ অক্টোবর রায় দেন আদালত। ওই দিন আদালত সরকারকে ১০ দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করার নির্দেশ দেন। রায় দেন চট্টগ্রাম প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক খাইরুল আমিন।
রায় ঘোষণার দিন বাদীর আইনজীবী মফিজুল হক ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেছেন, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ পেয়েছেন আদালত। এই কারণে বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে চসিকের মেয়র ঘোষণা করা হয়েছে।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হয়েছিল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শাহাদাত হোসেনের ভোট সংখ্যা ছিল ৫২ হাজার ৪৮৯। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে রেজাউল করিমসহ ৯ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন।
আদালত ১০ দিনের সময় দিলেও মাত্র ৭ দিন পরেই নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এবং যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত, চট্টগ্রামে দায়েরকৃত নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল মামলার গত ১ অক্টোবরের আদেশে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী ও ১ নম্বর বিবাদী মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণা বাতিল করে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র ঘোষণা করা হলো।
ইসির প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেনকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও তিনি পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। চলতি মাসে শপথ নিলে তিনি সর্বোচ্চ ১৬ মাস দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কারণ, সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ পরিষদের পাঁচ বছর মেয়াদ ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই পরিষদের নির্বাচিত মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। সাধারণত প্রথম সাধারণ সভার দিন থেকে পরিষদের মেয়াদ গণনা করা হয়।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হয়েছিলেন নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন ওই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি। তিনি ছিলেন সিটি করপোরেশনের চতুর্থ নির্বাচিত মেয়র। রেজাউল করিম চৌধুরীসহ ১২ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে ১৯ আগস্ট অপসারণ করে সরকার।
রেজাউল করিম চৌধুরীর আগে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী টানা তিনবার, এরপর বিএনপি–সমর্থিত মোহাম্মদ মনজুর আলম একবার এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন একবার করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। অর্থাৎ শাহাদাত হোসেন শপথের পর দায়িত্ব নিলে সিটি করপোরেশনের পঞ্চম নির্বাচিত মেয়র হবেন।
পূর্ণ মেয়াদ না পেলেও যেটুকু সময় পাবেন, তার মধ্যে নগরের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতা শাহাদাত হোসেন।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের অপসারণ করেছে। এ জন্য স্থানীয় সরকার (সিটি করপোর