৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারীদের উপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে সাতজনকে হত্যার ঘটনার আতঙ্কের মাঝেই আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৯টার দিকে একই জেলার বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ জানায়, উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী কাজ শেষ করে সকালে স্ত্রী এবং ছেলেকে নিয়ে কাপ্তাই হ্রদ হয়ে নৌকায় করে বিলাইছড়ি সদরে আসছিলেন সুরেশ। পথে তিনকোনিয়া ইউনিয়নের আলিক্ষণ পাড়ায় একদল দুর্বৃত্ত নৌকা থামিয়ে সুরেশের স্ত্রী ও ছেলেকে লাথি মেরে নৌকা থেকে ফেলে দেয় এবং সুরেশকে পাশের একটি টিলায় নিয়ে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
ময়নাতদন্তের জন্য সুরেশ কান্তির মরদেহ রাঙামাটি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল।
এদিকে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছেন। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছে জনসংহতি সমিতি।
সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে হত্যার প্রতিবাদে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হাজী মো. মুসা মাতব্বর।
এদিকে, রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে আহত ১০ জনকে সোমবার রাতে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টস্থ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ মনজুর জানান, সাজেক ইউনিয়নের তিনটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচনী কর্মকর্তারা, আনসার ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বিজিবি প্রহরায় চাঁদের গাড়ি (যাত্যীবাহী জিপ) চড়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরে ফিরছিলেন। এ সময় তাদের ওপর ব্রাশফায়ার করা হলে চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে গাড়িটি চালিয়ে বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এ হামলায় নিহতরা হয়েছেন- প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান (৪৫), সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন (৪০), আনসার ভিডিপি সদস্য জাহানারা বেগম (৪০), বিলকিস আক্তার (৩০), আল-আমীন (১৭) মিহির কান্তি দত্ত (৩৫) ও পথচারি মন্টু চাকমা (৩৫)।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। পরে তারা হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বাকি আহতদের খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা জানিয়েছেন, রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর ব্রাশফ্রায়ারের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আজ সকালে চট্টগ্রাম সিএমএইচে আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে বলে জানান সিইসি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘একজন যদি বলেনও যে নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে, সেটা তাৎক্ষণিকভাবে সত্য বলে ধরে নেয়ার সুযোগ নেই। যদি এটা প্রমাণ না হয় যে, সত্যিই অনিয়ম হয়েছে, তার আগেইতো অনিয়ম হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায় না।’
তিনি বলেন, ‘যদি নির্বাচনে অনিয়ম হয়ে থাকে সেটার প্রতিশোধ নিশ্চয় কতগুলো মানুষের জীবন নিয়ে হয় না। সেটার পরে তদন্ত হতে পারে। আমরা এ ব্যাপারে পুলিশকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।’