৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বাংলাদেশের সর্বত্র দুর্নীতি-অনিয়ম চলছে বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, আজকে প্রতিটি ক্ষেত্রে পতন ঘটেছে। এই পতনের কারণ হলো, দেশে কোনও প্রতিনিধিত্বশীল সরকার নেই। যে কারণে আজ কোন কিছুর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। তাদের দলের নেতাকর্মীদের দুর্নীতি এমন প্রসার লাভ করেছে যে, সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
আজ (শুক্রবার) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন মওদুদ আহমদ। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে ‘অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (অ্যাব) এ মানববন্ধন আয়োজন করে।
তিনি আরও বলেন, এই সরকারের নিয়ন্ত্রণ এখন আর নেই। সেটার প্রমাণ আমরা গত দুই সপ্তাহে পেয়েছি। শামীম, খালেদ আর সম্রাট, এরা মাত্র তিনটি নাম। আরও শত শত নাম আছে এবং শত শত মানুষ আছে যুবলীগ করে, যারা চাঁদাবাজি করে, ক্যাসিনো চালায় এবং জুয়ার আসর বসায়। এরা কারা? তারা তো এই দলেরই নেতা। ছাত্রলীগেও অনেক শোভন-রাব্বানী রয়েছে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, আজ দুর্নীতি বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। নিজেদের দলের মধ্যে তো আছেই, এমন কী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ উপাচার্য দুর্নীতিতে অভিযুক্ত। এরমধ্যে তিনজন উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়েছে। উপাচার্য একজন সম্মানিত ব্যক্তি। কিন্তু তারাও আজ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছেন। একইসঙ্গে আদালতের সর্বত্র দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসা দাবি করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে এই সরকার ভয় পায়। কারণ, তারা জানে খালেদা জিয়া যদি মুক্ত হন, তাহলে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে। স্বেচ্ছাচারিতা আর থাকবে না। ফ্যাসিবাদী সরকার আর থাকবে না। তাই আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।
সরকারের পদত্যাগ দাবি করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, অবিলম্বে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগ করে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিত হবে। যে নির্বাচনে জনগণের ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব সরকার গঠিত হলেই এই নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি, জুয়ারি, ক্যাসিনো দূর হবে।