৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
নিহত দুই বাংলাদেশির লাশ ফেরত দেয়নি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোসালপুর সীমান্তের ওপারে কুমারীপাড়ায় গুলি করা তাদের হত্যা করা হয়। লাশ ফেরত চেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে পাঠানো পতাকা বৈঠকের ব্যাপারেও কোনো সাড়া দেয়নি বিএসএফ। গত মঙ্গলবার নিহতরা হলেন উপজেলার খোসালপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহেল রানা (১৯) এবং উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের কাওসার আলীর ছেলে হারুন অর রশিদ (৩০)।
বুধবার দুপুরে খোসালপুর বিজিবি বিওপির কোম্পানি কমান্ডার আবু তাহের জানান, গতকাল এক দফায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে চিঠি দেওয়া হলে বিএসএফ সেটি গ্রহণ করেনি। আজ মহেশপুর-৫৮ বিজিবির অধিনায়কের পক্ষ থেকে ফের ভারতীয় বিএসএফের নবম ব্যাটালিয়ান কমান্ডারকে লাশ ফেরত চেয়ে পতাকা বৈঠকের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত বিএসএফ ওই চিঠির উত্তর দেয়নি। বিজিবি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পতাকা বৈঠকের পরই এ ব্যাপারে সবকিছু জানানো হবে। এ ব্যাপারে মহেশপুর থানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদুল কবীর বলেন, বিজিবির অনুরোধে লাশ গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পতাকা বৈঠক কখন হবে তা জানা নেই বলে জানান তিনি।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোসালপুর সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত সোহেল রানা (১৭) ও হরুন অর রশিদ (২০) নামে দুই বাংলাদেশির লাশ ফেরত চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিজিবি। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঝিনাইদহ খালিশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান। তিনি জানান, আমরা নিশ্চিত হয়েছি ভারতের কুমারীপাড়া এলাকায় দুই বাংলাদেশি বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত হয়েছেন। পতাকা বৈঠক ও তাদের লাশ ফেরত আনার পক্রিয়া আমরা শুরু করেছি।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে বিজিবির খোসালপুর ক্যাম্প কমান্ডার আবু তাহের জানিয়েছিলেন, আমরা প্রতিবাদপত্রসহ লাশ ফেরত চেয়ে চিঠি দিলেও তাতে সাড়া দিচ্ছে না বিএসএফ। এর আগে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের প্ররোচনায় পড়ে ভারতের অভ্যন্তরে রাখাল হিসেবে গরু আনতে গিয়ে নিহত হন সোহেল রানা ও হারুন। তাদের সাথে আরো অনেকেই ছিলেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার ভোরে ভারতের কুমারীপাড়া একটি কলাবাগানের মধ্যে অবস্থানকালে বিএসএফ তাদের উপর গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সোহেল রানা ও হারুন নিহত হন। অপর একজন পায়ে গুলিবিদ্ধ হয় বলে গোয়েন্দাদের একটি সূত্রে জানা গেছে।
নিহত সোহলে রানা মহেশপুরের বাকশপোতা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ও খোসালপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। অন্য দিকে নিহত হারুন অর রশিদ মহেশপুরের শ্যামকুড় মসজিদ পাড়ার কাউসার আলীর ছেলে। খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ভোরের দিকে ভারতের কুমারীপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের কাছে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালেই আমরা লোকমুখে কানাঘুষা করতে শুনি। মহেশপুরর শ্যামকুড় গ্রামের এনামুল হক জানান, হারুন আমার সাথে দেশী গরুর ব্যবসা করতো। গত দুই দিন তার সাথে আমার আর যোগাযোগ নেই। শুনেছি সে ভারতে গরু আনতে গিয়ে মারা গেছনে।