বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
গাজীপুরে লাগেজ-বস্তায় নারীর খণ্ডিত মরদেহ, আটক ৩ গাজীপুরে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে জমি দখলের অভিযোগ আইনজীবীর বিরুদ্ধে “মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি” এই স্লোগানে গাজীপুরে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের লাখ টাকার ফুটবল টুর্নামেন্ট ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন সাংবাদিক আবুল কাশেমের নামে টেকনাফ থানায় করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ‎গাজীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইউপি সদস্যের নামে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা গাজীপুরে যুবদল নেতার উপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আলোচনা সভা ও বিজয় র‍্যালী – ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান এমপি বাচ্চুর জয়দেবপুর থানা পুলিশের ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত শেষ পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া, শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে কেন্দ্র ও মহানগর নেতৃত্ব

দেশের ওষুধের বাজারে নৈরাজ্য: রোগীরা নাকাল, প্রশাসন নীরব

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৯, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

৫২ জাতীয় ডেস্ক।।

দেশের ওষুধের বাজারে চলছে নৈরাজ্য। ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো। খুচরা ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত মূল্য মানছে না। নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর এক্ষেত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আর নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে নাকাল হচ্ছেন রোগী আর তাদের পরিবার।

রাজধানীর মিটফোর্ডের পাইকারি ওষুধের বাজার ও খুচরা ওষুধ বিক্রেতারা জানান, সম্প্রতি সবচেয়ে দাম বেড়েছে ইনসুলিনের। এছাড়া হৃদরোগ, ক্যান্সার ও হেপাটাইটিসের ওষুধের দাম বেড়েছে। এক্ষেত্রে এক হাজার টাকার ইনসুলিন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকায়। ডায়াবেটিস রোগীদের বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেটের দাম বেড়েছে ৯ থেকে ২০ টাকা।

হৃদরোগের যেসব ওষুধের এক প্যাকেটের দাম ছিল ৬০ টাকা, তার বর্তমান মূল্য ১৫০ টাকা। হেপাটাইটিস (বি+সি) কম্বিনেশন এক হাজার টাকার ওষুধ বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা। কাশির ওষুধেরও দাম বেড়েছে।

ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপিতে প্রয়োজনীয় ডসেটিক্সেল, প্যাক্লিটেক্সেল, কার্বোপ্লাটিন, সিসপ্লাটিন, জেমসিটাবিন ইত্যাদি ওষুধের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

একইভাবে ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক কোম্পানিগুলোও তাদের ওষুধের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে ওষুধের দাম বাড়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এমনকি কাঁচামালের (এপিআই) বাজারও স্বাভাবিক রয়েছে। তারপরও দেশে বিভিন্ন কোম্পানি একই ওষুধ উৎপাদন করে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করছে।  

যেমন, গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের জি ক্যাটামিন ৫০ এমজির প্রতিটি ভায়ালের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ৮০ টাকা, পপুলার ফার্মার ক্যাটালার ১১৫ টাকা, ইনসেপ্টার ক্যাটারিড ১১৫ টাকা এবং রেনেটার কেইন ইনজেকশন প্রতি ভায়াল ১০০ টাকা। তবে সরবরাহ সংকটে বর্তমানে এসব ইনজেকশন ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ওষুধ প্রশাসনের হিসেবে আড়াই হাজারের বেশি ওষুধ দেশে উৎপাদন বা পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করে থাকে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে বাজারে চাহিদা কম এরকম ১১৭টির ওষুধের মূল্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বাকিগুলোর মূল্য নির্ধারণে সরকারের তেমন কোনো ভূমিকা নেই।

১৯৮২ সালে প্রবর্তিত ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশে যে কোনো ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ছিল সরকারের হাতে। কিন্তু ১৯৯৪ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়, অত্যাবশ্যকীয় তালিকাবহির্ভূত ওষুধের দাম নিজ নিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করবে। সেই নির্দেশনার বলে ইচ্ছামতো দাম নির্ধান করার সূযোগ পায় কোম্পানিগুলো। ২০১৬’র নীতিমালায় কিছুটা পরিবর্তন করা হলেও বর্তমানে কোম্পানিগুলো যে দাম চাইছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর সেই দামেই বিক্রির অনুমতি দিচ্ছে। ফলে ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরেই থেকে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ডাক্তার ফায়েজুল হাকিম গণমাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা খাতে রোগীর পকেট থেকে ব্যয় হয় সবচেয়ে বেশী। এর মধ্যে যার দুই-তৃতীয়াংশই ব্যয় হয় ওষুধের পেছনে। এখানে সরকার পক্ষের লোকজন ওষুধ ব্যবসায় যুক্ত বলে তারা অন্যসব ভোগ্য পণ্যের মতো জীবন রক্ষাকারী ওষুধকেও মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্র বানিয়ে জনগণের পকেট কাটছে। তিনি মনে করেন, এভাবে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশবাসীকে সোচ্চার হতে হবে।

বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিএমএর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই মাহবুব গণমাধ্যমকে বলেছেন, ৯৫ ভাগ মানুষের সুস্থতার জন্য যেসব ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। আমাদের ক্ষমতা নেই এ কথা বলে ঔষধ প্রশাসন বসে থাকতে পারে না। ওষুধের দাম বাড়লে অবশ্যই তার যৌক্তিকতা থাকতে হবে। তাছাড়া ওষুধনীতিতে তাদের যথেষ্ট ক্ষমতা দেয়া আছে, যেটার ব্যবহার করতে হবে। কোম্পানির স্বার্থ দেখা তাদের কাজ নয়।

এ প্রসঙ্গে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,  সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো ওষুধের দাম বাড়ানো হয়নি। তাছাড়া সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দশনা অনুযায়ী ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বা নির্ধারিত মূল্যের বেশী দামে বিক্রির দায়ে অনেক বিক্রেতাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ওষুধ শিল্প সমিতি সূত্র জানায়, সাধারণত ওষুধের কাঁচামাল বা এপিআইর দাম বাড়ার কারণে বাড়ে ওষুধের দাম। পাশাপাশি বিপণন খরচের ভূমিকা থাকে। বর্তমানে বেশির ভাগ কাঁচামাল আসে ভারত ও চীন থেকে। এগুলোর দাম সময় সময় ওঠানামা করে। এক্ষেত্রে দাম বাড়লে কোম্পানিগুলো ঔষধ প্রশাসনে দাম বাড়ানোর আবেদন করে। কিন্তু দাম কমলে তারা আর ওষুধের দাম কমানোর কথা চিন্তা করে না।

এ প্রসঙ্গে ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মো. শফিউজ্জামান  বলেছেন, আমার জানা মতে, কোম্পানিগুলো ওষুধের দাম বাড়ায়নি। তবে দোকানিরা যদি দাম বাড়িয়ে থাকে তা দেখার দায়িত্ব ঔষধ প্রশাসনের। আমাদের কিছু করার নেই।

সুত্র-পার্সটুডে।


এ জাতীয় আরো খবর...

আর্কাইভ সংবাদ

FriSatSunMonTueWedThu
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930