মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন- ছবি: রয়টার্স
সোমবারই একটি বিবৃতিতে জো বাইডেন বলেন, জনগণের ইচ্ছাকে কখনই কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা উচিত নয়। একইসঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের ফলাফলও প্রত্যাখ্যানের চেষ্টা করা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্র এর বিপক্ষে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে সোমবার ভোরে অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ দলের সিনিয়র নেতাদের আটক করে জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী।মিয়ানমারে সেনা ক্ষমতা দখল ও নেতাদের আটকের জেরে দেশটিতে নিজেদের নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনঃস্থাপনের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
মিয়ানমারের গণতন্ত্রের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে গত দশকে নিষেধাজ্ঞাগুলো সরিয়ে নিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে বাইডেন বলছেন, বিষয়গুলো জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র যেখানেই আক্রমণাত্মক পরিস্থিতি দেখবে, সেখানেই গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়াবে।
এর আগে ১৯৬২ সালে এক অভ্যুত্থানের পর দেশটি টানা ৪৯ বছর সামরিক বাহিনীর হাতে শাসিত হয়েছে। অর্থাৎ দেশটি মাঝখানে মাত্র ১০ বছর ছিল গণতন্ত্রের পথে। অবশ্য এ সময়েও সামরিক হস্তক্ষেপ যখন তখনই ছিল।
একইসঙ্গে সামরিক অভ্যুত্থানে আটক অং সান সু চিসহ অন্যান্য রাজনীতিবিদদের ছেড়ে দেওয়া না হলে সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা নেওয়ার’ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছে জো বাইডেন প্রশাসন। এছাড়া অভ্যুত্থানে আটক অং সান সু চিসহ বেসামরিক রাজনীতিবিদদের ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তা না হলে ‘ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন জো বাইডেন। এমনকি চীনের বিরুদ্ধেও এ নীতি অটল থাকবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তাই ক্ষমতা নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থান তার পররাষ্ট্রনীতির জন্য ‘চ্যালেঞ্জ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেনা অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা দখলে নিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ এবং সেনাপ্রধান মিন অং লাইং।
এ ঘটনায় যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ নিন্দা জানিয়েছে। তাৎক্ষণিক নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আরও কয়েকটি সংস্থা।
গত বছরের ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি নিরঙ্কুশ জয় পায়। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২টি আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পেয়েছে ৩৪৬টি আসন। সোমবার থেকে নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। তারপর থেকেই দেশটিতে আবার সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা দেখা দেয়।
খবর বিবিসি ও পলিটিকোর