মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
গাজীপুরে লাগেজ-বস্তায় নারীর খণ্ডিত মরদেহ, আটক ৩ গাজীপুরে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে জমি দখলের অভিযোগ আইনজীবীর বিরুদ্ধে “মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি” এই স্লোগানে গাজীপুরে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের লাখ টাকার ফুটবল টুর্নামেন্ট ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন সাংবাদিক আবুল কাশেমের নামে টেকনাফ থানায় করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ‎গাজীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইউপি সদস্যের নামে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা গাজীপুরে যুবদল নেতার উপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আলোচনা সভা ও বিজয় র‍্যালী – ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান এমপি বাচ্চুর জয়দেবপুর থানা পুলিশের ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত শেষ পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া, শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে কেন্দ্র ও মহানগর নেতৃত্ব

সিম রেজিস্ট্রেশনের যদি এবং কিন্তু

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট টাইম : শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

বিশ্বে জঙ্গিবাদীদের সবচেয়ে বড় এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলা সন্ত্রাসী ঘটনাগুলো কোথায় ঘটেছে এবং সেসব দেশে কি এ ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে? সন্ত্রাসবাদ যে নতুন বৈশ্বিক রূপ নিয়েছে, তার সূত্রপাত ঘটে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যা নাইন-ইলেভেন নামে পরিচিত। তারপর থেকে গত ১৫ বছরে বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তেই জঙ্গিবাদীরা আঘাত হেনেছে। লন্ডনে সেভেন সেভেন বা মেট্রোরেলে হামলা, স্পেনে​ মাদ্রিদে রেলে হামলা, প্যারিসে কনসার্ট হলে হামলা এবং সাম্প্রতিক ব্রাসেলসের বিমানবন্দর এবং মেট্রোরেলে হামলা বিশ্বব্যাপী বহুলভাবে আলোচিত। এ ছাড়া ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও আফগানিস্তানের মধ্য যুদ্ধপীড়িত রাষ্ট্রগুলোর বাইরে সন্ত্রাস বারবার আঘাত হেনে চলেছে পাকিস্তানে। এসব দেশের কোন কোনটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে মোবাইল ফোন গ্রাহকদের বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করেছে তা কি আমরা জানি?

ইউরোপ, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ায় যাঁরা গেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই সাক্ষ্য দিতে পারবেন যে সেসব জায়গায় এ ধরনের বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের বালাই নেই। ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের প্রায় সব জায়গাতেই মোবাইল ফোনের সেবা পাওয়ার দুটো উপায়। একটি মাসিক চুক্তি আর অন্যটি যতটুকু ব্যবহার ততটুকু ব্যয়। মাসিক চুক্তিতে সেবা নিতে হলে সেবাদাতা কোম্পানির কাছে পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য আবাসিক ঠিকানা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দিতে হয়। আবাসিক ঠিকানা প্রমাণের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা পাসপোর্টের কপি কিংবা অন্য কোনো সেবা কোম্পানি যেমন বিদ্যুৎ বা পানির বিল দেখালেও চলে। সেখানে কেউ বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের কথা বলে না। আর যদি পে অ্যাজ ইউ গো নামে পরিচিত যতটুকু ব্যবহার ততটুকু খরচের চুক্তিতে গ্রাহক হন, তাহলে কোনো নাম-পরিচয় প্রমাণের বালাই নেই।

চাইলে পরে আমাদের টেলিযোগাযোগ বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কর্তৃপক্ষের যে কেউ লন্ডনের অভিজ্ঞতা যাচাই করে নিতে পারেন। তাঁরা ওই দেশে আমাদের দূতাবাসগুলোতেও এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। সেখানে বিমানবন্দরে পৌঁছালে লাইকা, লিবরা, সিম্পলকল ইত্যাদি নানা নামের মোবাইল সেবাদানকারী কোম্পানি আপনাকে বিনা পয়সায় সিম অফার করবে। ওই সিমে সৌজন্য হিসেবে নিখরচায় পাঁচ পাউন্ড মূল্যের ফোন করার সুবিধাও থাকে। তারা ওই সিম বিক্রি করে এই আশায় যে এরপর আপনি যতটা সময় (টকটাইম) বা ডেটা কিনবেন, তাতে তাদের খরচ উঠে আসবে। ওই লিবরা ও লাইকা মোবাইলের সিম আমি সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতেও কিনেছি এবং ইউরোপের অন্য কিছু শহরেও তাদের অস্তিত্ব দেখেছি। বার্লিনে ভোডাফোনের পে অ্যাজ ইউ গো সিম পেতেও আমার কোনো রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হয়নি। তাহলে কি আমরা ধরে নেব আমাদের দেশে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি ওই সব পশ্চিমা দেশের চেয়েও বেশি? নাকি তাদের গোয়েন্দা কার্যক্রমের যে দক্ষতা ও যোগ্যতা আছে, আমাদের তা নেই?

তবে হ্যাঁ, বায়োমেট্রিক আপডেট নামক একটি ওয়েবসাইট জানাচ্ছে চারটি দেশে বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের তথ্য দেওয়া আছে। ওই দেশ চারটি হচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। সৌদি আরব, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে সন্ত্রাসের ঘটনা যে বন্ধ হয়নি, সে প্রমাণ সাম্প্রতিক বিভিন্ন হামলার সূত্রে আমরা জানি। সুতরাং, বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশন যে ওই দুই দেশে নিরাপত্তা রক্ষায় কাজে এসেছে তা কিন্তু প্রমাণ হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সন্ত্রাসের ঘটনা খুব একটা শোনা না গেলেও সেখানে রাজতন্ত্রের কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা বজায় রাখার প্রয়োজনে সবকিছুর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ নতুন কিছু নয়। কিন্তু আমরা কেন সন্ত্রাসপীড়িত আফগানিস্তান-পাকিস্তান অথবা দুই আরব রাজতন্ত্রের নিরাপত্তা কৌশলকে অপরিহার্য ভাবব?

জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের উপমহাদেশে সবচেয়ে বেশি কড়াকড়ি যাকে অনেকে বাড়াবাড়িও বলে থাকেন, সেটা দেখা যায় ভারতে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মুম্বাই ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা এখানে খুবই প্রাসঙ্গিক। মুম্বাইতে ২০০৮ সালে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলায় দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং তারপর থেকে ভারতের অন্যান্য শহরের তুলনায় সেখানকার নিরাপত্তা কড়াকড়ি অনেক বেশি। প্রথম দিন দুপুরে মুম্বাই পৌঁছানোর পর মোবাইল সিম কীভাবে পাওয়া যাবে তা নিয়ে খোঁজখবর করার পর জানা গেল যে পাসপোর্টের কপি জমা দিয়ে তা পাওয়া যাবে। তবে দুটো সমস্যা আছে। প্রথমত, স্থানীয় কোনো ব্যক্তির (হোস্ট) মোবাইল ফোন নম্বর প্রয়োজন হবে, যেটিতে তাঁরা সিম সক্রিয় করার বার্তা পাঠাবেন। আর দ্বিতীয়ত, সিম সক্রিয় হতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সৌভাগ্যক্রমে ট্যাক্সিওয়ালার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মাত্র ঘণ্টা চারেকের মধ্যেই আমার মোবাইল চালু হয়ে গেল। সেখানেও বায়োমেট্রিকের কোনো প্রশ্ন আজ পর্যন্ত ওঠেনি।

ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়ার সময় বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণের একটি জাতীয় ব্যবস্থা এখন দেশে চালু আছে। বলা হচ্ছে, মোবাইল কোম্পানিগুলো গ্রাহকের আঙুলের ছাপ ওই তথ্যভান্ডার থেকে যাচাই করে নেবে। তবে জাতীয় তথ্যভান্ডারে তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। কোনো তথ্যভান্ডারে নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও সীমিত প্রবেশাধিকার থেকেও যে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব, সে কথা নিশ্চয়ই আর কাউকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের পর নিশ্চয়ই আর কেউ গ্যারান্টি দিতে পারেন না যে আমাদের সব জাতীয় তথ্যভান্ডার অভেদ্য। আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের প্রতি আগ্রহী গোষ্ঠী যে শুধু দেশের ভেতরে আছে তাও নয়। বিদেশের অপরাধী চক্র, রাষ্ট্রীয় অথবা অরাষ্ট্রীয় (স্টেট অ্যান্ড নন-স্টেট অ্যাক্টরস) গোষ্ঠী কাউকেই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।

সরকার মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোকে ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়ার সময় জনস্বার্থে সরকারি বার্তা প্রচারের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে একটি শর্ত দিয়েছিল এবং এ কারণে মাঝেমধ্যেই সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরের বাণী আমরা আমাদের মোবাইল ফোনে পেয়ে থাকি (যদিও গত দেড় বছরে আমি যতগুলো বার্তা পেয়েছি তার অধিকাংশই হচ্ছে সরকারি প্রচারণা—জনগুরুত্বের নিরিখে খুব একটা প্রাসঙ্গিক নয়)। এগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে খুব একটা প্রশ্ন নাহয় না-ই করলাম। কিন্তু এখন যে গড়ে দৈনিক গোটা দশেক বার্তা পাই, সেগুলোর সবই আসে বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। নুডলস বিক্রেতা, বলিউড তারকাদের কনসার্ট, হোটেল চেইন, ট্রাভেল কোম্পানি, ব্যাংক, বিমা, ফ্ল্যাট বিক্রেতা—কে নয়? এঁরা সবাই আমাকে গ্রাহক হিসেবে পেতে চান এবং আমার মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠান।

আবার দেখা যায় চার ডিজিটের শর্ট কোড ব্যবহারকারী কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান হঠাৎ হঠাৎ ফোন করে। আপনি হয়তো তখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আছেন। অথবা বিদেশ থেকে কোনো জরুরি ফোনের অপেক্ষায় আছেন। তখন ওই সব নম্বর থেকে ফোন করে আপনাকে বলা হয় আপনি অমুক শিল্পীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে অমুক ডিজিট চাপুন, গান শুনতে চাইলে অমুক ডিজিট…। আমাদের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় কিংবা টেলিফোন সেবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা কি বলতে পারবে এসব বেসরকারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান কোন সূত্র থেকে আমার নম্বর হস্তগত করেছে? এদের অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ফোনের যন্ত্রণা থেকে গ্রাহকদের রক্ষা করার কথা কি তারা আজ পর্যন্ত ভেবেছে? ইউরোপের দেশগুলোতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অযাচিত ফোনকল এবং বার্তা পাঠানোর শাস্তি কতটা কড়া, তঁারা চাইলেই তা খোঁজ নিয়ে জেনে নিতে পারেন।

গ্রাহকদের প্রত্যেকেরই স্বাধীনতা আছে তাঁর ফোন নম্বর তিনি কাকে দেবেন আর কাকে দেবেন না সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার। কিন্তু সেই অধিকার উপেক্ষা করে গ্রাহকদের নম্বরগুলো বাণিজ্যিক বিবেচনায় একের পর এক হাতবদল হয়ে চলেছে। আমার নম্বর গোপন রাখার অধিকার যখন রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারেনি, তখন এই প্রশ্ন ওঠা কি স্বাভাবিক নয় যে বায়োমেট্রিক তথ্যের গোপনীয়তারও কোনো গ্যারান্টি থাকবে না?

এসব বিতর্কের পর আইনের প্রশ্নটিই বা কীভাবে উপেক্ষা করা যায়? মোবাইল ফোনের সিমের বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন কোন আইনের আওতায় হচ্ছে সেই প্রশ্নটি এখন আদালতে বিবেচনাধীন। আইনগত অধিকার, গ্রাহকের অধিকারের সুরক্ষা, ক্ষমতার সম্ভাব্য অপব্যবহারের প্রতিকার ইত্যাদি বিষয়ে আইনগত অবস্থান নির্ধারণ ছাড়া সিম রেজিস্ট্রেশনের জন্য পীড়াপীড়ি না করলেই কি নয়?


এ জাতীয় আরো খবর...

আর্কাইভ সংবাদ

FriSatSunMonTueWedThu
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930   
       
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031