শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার উত্তর নাকশী গ্রামের আলেয়া বেগমের (৫২) বাড়িতে চার দিন ধরে পানি জমে রয়েছে। তবে কেউই খোঁজ নেয়নি তার পরিবারের।
গতকাল ‘প্রথম আলো’ অনলাইন এবং আজকের সংবাদপত্রের মুদ্রিত সংস্করণে ‘চার দিন ধরে বাড়িঘরে পানি, কেউ খোঁজ নিল না’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বন্যায় কয়েকটি পরিবারের সরকারি ত্রাণ না পাওয়ার সংবাদ তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনটি দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা দ্রুত আলেয়া বেগমের পরিবারের কাছে ছুটে যান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে তিনি পরিবারটিকে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন।
ইউএনও মাসুদ রানা বলেন, “সংবাদটি আমার নজরে আসার পর আমি তাৎক্ষণিক ওই পরিবারের কাছে যাই। তাদের ত্রাণসামগ্রী প্রদান করি। সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক-রাজনৈতিক সবাই দ্বারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে যাতে বন্যায় কোনো পরিবার অভুক্ত না থাকে।”
মাসুদ রানা জানান, আলেয়া বেগমের পরিবারকে এক কেজি মুড়ি ও চিড়া, আধা কেজি গুড়, এক লিটার পানি এবং খেজুর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জগ, মগ, ব্রাশ, জুতা, ন্যাপকিন, ডিটারজেন্ট পাউডার, সাবান, গামছা, নখ কাটারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। আজ রাতে তাদের খাবারের জন্য খিচুড়ি পাঠানো হবে।
গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর পানি বেড়ে যায়। নদীর বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়া এবং বাঁধ উপচে যাওয়ার কারণে উপজেলার পোড়াগাঁও, নয়াবিল, নন্নী, রামচন্দ্রকুড়া, বাঘবেড় ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকা প্লাবিত হয়। গত শনিবার রাত থেকে উজানের পানি নিম্নাঞ্চল যোগানিয়া, মরিচপুরান, কলসপাড় এবং রাজনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত করে।
বন্যার্তদের সহযোগিতা করার জন্য জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কাজ করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৭ হাজার ৩০০ পরিবারকে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, খিচুড়িসহ বিভিন্ন সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।